মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১২৮ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।

প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চিত্রটা ঠিক উল্টো। বৃষ্টির কারণে লক্ষ্য ও ওভার কমে আসার চ্যালেঞ্জ সামলাতে না পেরে ঠিক ১১৪ রানেই অলআউট হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ১২৮ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল মোহাম্মদ রিজওয়ানের পাকিস্তান।

বৃষ্টির পর পাহাড়সম লক্ষ্য

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৯ উইকেটে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে বাংলাদেশ ৬.৩ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বৃষ্টি শুরু হয়। দীর্ঘ বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলে ডার্কওয়ার্থ-লুইস (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। অর্থাৎ, বাকি ২৫.৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২১৬ রান।

লিটন-হৃদয়ের লড়াই ও ব্যাটিং ধস

অসম্ভব এক লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিলেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে দুজন মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু ৩৩ বলে ৪১ রান করা লিটনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মাজ সাদাকাত। লিটনের বিদায়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। তাওহীদ হৃদয় করেন ২৮ রান।

শেষ ১৯ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে শেষ ৬টি উইকেট! আফিফ (১৪), অধিনায়ক মিরাজ (১) ও রিশাদ হোসেন (২) কেউই পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি। পাকিস্তানের হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত ৩টি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস ধ্বংস করে দেন।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ও রিশাদের স্পিন

এর আগে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। এছাড়া সালমান আগা ৬৪ ও অধিনায়ক রিজওয়ান ৪৪ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৩টি এবং মেহেদী মিরাজ ২টি উইকেট নেন।

সিরিজ এখন ১-১ সমতায়

প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে বাংলাদেশ জিতেছিল ৮ উইকেটে। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান সেই হারের বদলা নিল সমান ১১৪ রানেই বাংলাদেশকে অলআউট করে। ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি পরিণত হয়েছে অলিখিত ফাইনালে। আগামী ১৫ মার্চ মিরপুরেই নির্ধারিত হবে সিরিজের শিরোপা কার হাতে উঠছে।