রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস।এভাবেই কান্নার ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করেন ভিনিসিয়ুস। ছবি: এএফপি

ফুটবল মাঠে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, মাঝে মাঝে তা রূপ নেয় ব্যক্তিগত লড়াইয়ে। গতকাল রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬-র দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তেমনই এক দৃশ্য দেখল বিশ্ব। ম্যানচেস্টার সিটিকে জোড়া গোলে বিধ্বস্ত করার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি বিশেষ উদযাপন এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার তুঙ্গে। গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে দুই হাত চোখের কাছে নিয়ে ‘কান্নার ভঙ্গি’ দেখিয়ে সিটি সমর্থকদের যেন একহাত নিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

দেড় বছর আগের সেই ক্ষত

ম্যাচ শেষে নিজের এই রহস্যময় উদযাপনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস নিজেই। এর প্রেক্ষাপট বুঝতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর ঘোষণার সেই বিতর্কিত রাতে। সেবার সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে ভিনিসিয়ুসকে হারিয়ে মুকুট জিতেছিলেন সিটির রদ্রি।

সেই ঘটনার পর ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রিয়ালের বিপক্ষে এক ম্যাচে সিটির সমর্থকরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিল, যেখানে লেখা ছিল “Stop Crying” (কান্না থামাও)। দেড় বছর ধরে সেই অপমান বয়ে বেড়িয়েছেন ভিনি। গতকালের জোড়া গোল ছিল সেই উপহাসের মোক্ষম জবাব।

প্রতিশোধের রাত ও ‘চুপ’ থাকার ইশারা

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগ ৩-০ ব্যবধানে জেতার পর দ্বিতীয় লেগের ২২ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সিটির প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। গোল করার পরপরই ঠোঁটে আঙুল দিয়ে গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ইশারা করেন তিনি। এরপরই সেই আলোচিত কান্নার ভঙ্গি।

ম্যাচ শেষে ভিনি বলেন, “আমি সিটি ফ্যানদের অবমাননা করতে চাইনি। গতবার যখন এখানে এসেছিলাম, তখন তারা আমাকে নিয়ে মজা করছিল। ‘স্টপ ক্রাইং’ ব্যানার দেখিয়ে আমাকে ছোট করা হয়েছিল। আজ এটা ছিল তাদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার উপায়।”

রিয়াল মাদ্রিদের সেই ঐতিহাসিক বয়কট

২০২৪ সালের সেই ব্যালন ডি’অর বিতর্ক রিয়াল মাদ্রিদ এবং উয়েফার মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি করেছিল। পুরস্কার ঘোষণার আগেই খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পুরো অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল লস ব্লাঙ্কোসরা।

তখন ক্লাবের পক্ষ থেকে এএফপিকে জানানো হয়েছিল, মানদণ্ড অনুযায়ী ভিনিসিয়ুস যোগ্য না হলে কারবাহাল সেরা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উয়েফা ও ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদকে সম্মান না করায় তারা সেখানে যায়নি।

সেই অপমানের রেশ কাটেনি আজও। গতকাল ইতিহাদের সবুজ ঘাসে ভিনিসিয়ুসের সেই উদযাপন মনে করিয়ে দিল—সময় সত্যিই সবকিছু বদলে দেয়। যে ব্যানার দিয়ে তাঁকে একসময় কাঁদানো হয়েছিল, সেই কান্নার ভঙ্গি দিয়েই আজ ম্যানচেস্টার সিটিকে স্তব্ধ করে দিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার।