মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট।

দীর্ঘদিনের পরিচিত সেই মন্থর আর টার্নিং উইকেটের তকমা ঝেড়ে ফেলেছে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পাকিস্তান সিরিজের আগে যেখানে ওয়ানডেতে আড়াইশ রান তোলা নিয়ে সংশয় ছিল, সেখানেই দেখা গেল রানের উৎসব। ব্যাটসম্যান ও বোলার—উভয়ের জন্য সমান সুযোগ রাখা ‘স্পোর্টিং উইকেট’ বানিয়ে চমক দিয়েছে বাংলাদেশ। বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন জানিয়েছেন, এটি কোনো সাময়িক পরিবর্তন নয়; বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন থেকে এই স্পোর্টিং উইকেটেই গড়া হবে।

কেন এই আমূল পরিবর্তন?

ঘরের মাঠে সাধারণত বাংলাদেশ দল স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলে অভ্যস্ত, যা আইসিসি’র বড় টুর্নামেন্টগুলোতে গিয়ে বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে মানিয়ে নিতে হিমশিম খান ব্যাটাররা। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এবার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে বোর্ড।

নাজমূল আবেদীন বলেন, “চ্যালেঞ্জটা যদি না নিতে চাই, সাহস দেখাতে না পারি—তাহলে আমাদের খেলাটা পরের ধাপে যাবে না। ওই চিন্তা থেকেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া। ভবিষ্যতে আমরা আর আগের সেই মন্থর উইকেট দেখতে পাব না।”

পেসারদের দাপট ও ব্যাটারদের সাফল্য

পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে এই স্পোর্টিং উইকেটের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। সিরিজের ৩০টি পাকিস্তানি উইকেটের মধ্যে ১৯টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। আবার ব্যাটিংয়েও দেখা গেছে ভিন্ন রূপ; ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পাকিস্তানের সালমান আলী আগা ১০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।

বগুড়া ও রাজশাহীতে বিসিএল ওয়ানডেতেও এমন উইকেটে খেলিয়ে ক্রিকেটারদের অভ্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি।

অনুশীলনের ধরনেও আসছে বদল

শুধু ম্যাচের উইকেট নয়, মিরপুরের একাডেমি ও ইনডোর অনুশীলনের উইকেটেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। জাতীয় দলের পাশাপাশি নারী দল এবং বয়সভিত্তিক ক্রিকেটাররাও যাতে বাউন্সি ও স্পোর্টিং উইকেটে খেলে বড় হতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে বোর্ড।

বিসিবি’র লক্ষ্য পরিষ্কার—২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আইসিসি’র ব্যাটিং-বান্ধব কন্ডিশনে লড়াই করার জন্য এখনই ক্রিকেটারদের তৈরি করা।

মিরাজের অধিনায়কত্বে সন্তুষ্টি

গত বছর টানা চার সিরিজ হারার পর মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় সব পাল্টে দিয়েছে। আগামী জুনে তাঁর নেতৃত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের কথায় মিলেছে স্বস্তির আভাস। মিরাজের সক্ষমতায় বোর্ড খুশি জানিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজের ওপরই আস্থা রাখতে চায় বিসিবি।

মিরপুরের উইকেটে এই বদল কি তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিশ্বজয়ের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, বিসিবি’র এই নতুন পরিকল্পনা সমর্থকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।