পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং অস্থিরতার কালো ছায়া এবার আছড়ে পড়ল ক্রিকেট মাঠে। বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০২৬ আসর দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শুধু তাই নয়, ছয়টি ভেন্যুর বদলে পুরো টুর্নামেন্টকে গুটিয়ে আনা হয়েছে মাত্র দুটি শহরে—করাচি ও লাহোরে। এমনকি বাতিল করা হয়েছে লাহোরে নির্ধারিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও।
টাইগার ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ও অনিশ্চয়তা
এবারের পিএসএলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচজন ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে। তারা হলেন—মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, শরীফুল ইসলাম, নাহিদ রানা এবং রিশাদ হোসেন। এছাড়া ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গেও পেশোয়ার জালমির কথাবার্তা চলছে বলে জানা গেছে।
তবে পাকিস্তানের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও চলাফেরা সীমিত করার নির্দেশে মাঠের লড়াই কতটা ছন্দময় হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বক্তব্য
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে চলাফেরা সীমিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। নাকভি বলেন, “যেখানে দেশের মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে, সেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষকে মাঠে আসার আমন্ত্রণ জানানো স্ববিরোধী। তাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শে আমরা দর্শক ছাড়াই টুর্নামেন্ট চালানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে টুর্নামেন্টের শেষভাগে দর্শক ফেরার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন তিনি। সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে সংকটের সমাধান হলে গ্যালারি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক ক্ষতি ও ভেন্যু পরিবর্তন
দর্শক না থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে পিসিবি আশ্বস্ত করেছে যে, এই ক্ষতির ভার বোর্ড বহন করবে এবং অগ্রিম টিকিট ক্রেতাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। পেশোয়ারের মতো শহরগুলো যারা ম্যাচ আয়োজনের অপেক্ষায় ছিল, তাদের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পিসিবি প্রধান।
আগামী ২৬ মার্চ পর্দা উঠবে পিএসএলের এবারের আসরের। দীর্ঘ পথচলা শেষে ৩ মে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই টুর্নামেন্টের।

