সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর লড়াই।লড়াই করেও পারলো না বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

শুরুটা ছিল আশায় ভরা, কিন্তু শেষটা হলো বুকফাটা হতাশায়। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করল বাংলাদেশ। আক্রমণ, প্রেসিং আর বল পজেশনে স্বাগতিকদের কাঁপিয়ে দিলেও ফুটবল বিধাতা যেন এদিন সহায় ছিলেন না। সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো হাভিয়ের কাবরেরার (Javier Cabrera) শিষ্যদের। ৬ ম্যাচে মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ হলো লাল-সবুজের এশিয়ান কাপ মিশন।

হারিস স্টুয়ার্টের গোল ও রক্ষণের ভুল

ম্যাচের ৩১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে এক ঝটিকা পাল্টা আক্রমণে ওঠে সিঙ্গাপুর। ইখসান ফান্দির (Ikhsan Fandi) বাড়ানো পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান হারিস স্টুয়ার্ট (Haris Stewart)। অথচ প্রথমার্ধের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের। ১৪ মিনিটে শামিত সোমের হেড বার উঁচিয়ে না গেলে ম্যাচের চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। ফাহিম বক্সে ফাউলের শিকার হলেও রেফারির বাঁশি নীরব থাকায় পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দাপট ও মিরাজুলের দুর্ভাগ্য

পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমন, বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলামদের নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান কাবরেরা। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে তৈরি হয় সবচেয়ে বড় সুযোগটি। মাঝমাঠ থেকে হামজা চৌধুরীর (Hamza Choudhury) মাপা ফ্রি-কিক খুঁজে নেয় মিরাজুলকে। মিরাজুলের নেওয়া শটটি সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগটি সেখানেই হাতছাড়া হয়।

সিঙ্গাপুরের রক্ষণাত্মক কৌশল ও মিতুল মারমার দৃঢ়তা

ম্যাচের শেষ দিকে Singapore কোচ জোড়া পরিবর্তন এনে রক্ষণ জমাট করেন। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইরফান ফান্দি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিপদ সামাল দিলেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় গোল পাওয়া হয়নি। এর আগে জুনে ঢাকায় প্রথম লেগে ২-১ গোলে হারার পর অ্যাওয়ে ম্যাচেও হারের তিক্ততা নিয়েই বছর শেষ করল বাংলাদেশ।