বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরো স্টেডিয়ামে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়টি কেবল একটি প্রীতি ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং এটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে লিওনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni) দল গুছিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত মহড়া। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচের ছন্নছাড়া ফুটবল থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন আর্জেন্টিনা খেলেছে নিখুঁত ‘টোটাল ফুটবল’।
মেসির নতুন ভূমিকা: ফিনিশার না কি প্লে-মেকার?
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির (Lionel Messi) অবস্থান ছিল অনেকটা ‘ফ্রি-রোমিং’ প্লে-মেকারের মতো। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাস থেকে মেসি যেভাবে হুলিয়ান আলভারেজকে (Julian Alvarez) থ্রু বলটি বাড়িয়েছিলেন, তা ছিল বিশুদ্ধ ট্যাকটিক্যাল গেম।
৪৩ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের সাথে তাঁর ‘ওয়ান-টু-ওয়ান’ পজিশনাল ফুটবল প্রমাণ করেছে যে, বয়সের সাথে সাথে মেসি এখন বক্সের ভেতর ঘাতক হওয়ার চেয়ে আক্রমণ তৈরিতে বেশি মনোযোগী।
হাই-প্রেসিং ও ট্রানজিশনাল ফুটবল
স্কালোনির আর্জেন্টিনা এদিন জাম্বিয়াকে পাত্তাই দেয়নি তাদের হাই-প্রেসিং কৌশলে। ৭৬ শতাংশ বল পজেশনই বলে দিচ্ছে, আফ্রিকান দলটিকে নিজেদের অর্ধ থেকে বেরোতেই দেয়নি আলবিসেলেস্তেরা। বিশেষ করে মাঝমাঠে এনসো ফের্নান্দেস (Enzo Fernandez) এবং পারেদেসের নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো। যখনই জাম্বিয়া পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে, তখনই ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ছিল অপ্রতিরোধ্য।
ওতামেন্দির বিদায়ী আবেগ ও বার্কোর প্রতিশ্রুতি
নিকোলাস ওতামেন্দির (Nicholas Otamendi) জন্য এটি ছিল ঘরের মাঠে এক বিশেষ রাত। আর কোনোদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের মাটিতে খেলতে নামবেন না তিনি। এ ম্যাচের ৫০ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি ওতামেন্দিকে দিয়ে নেওয়ান মেসি। পেনাল্টি উপহারটি শুধু একটি গোল ছিল না, বরং এটি ছিল এক কিংবদন্তিকে যোগ্য সম্মান জানানো।
অন্যদিকে, ২১ বছর বয়সী ভ্যালেন্টিন বার্কোর (Valentin Barco) গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বার্তাস্বরূপ। যোগ করা সময়ে তাঁর ফিনিশিং দক্ষতা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, দি মারিয়া পরবর্তী যুগে উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার নতুন অস্ত্র পেয়ে গেছে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন:
> মেসি নাকি রোনালদো? ক্যাসেমিরোকে নিয়ে দুই মহাতারকার ‘যুদ্ধ’!
> অমরত্বের পথে আর্জেন্টিনা: মেসির সামনে ‘অসম্ভব’ সেই রেকর্ড!
স্কালোনির ৮ পরিবর্তন: কিসের ইঙ্গিত?
পুরো ম্যাচে ৮ জন বদলি নামিয়ে স্কালোনি মূলত তাঁর ‘প্ল্যান বি’ পরখ করে নিয়েছেন। ৭৪ মিনিটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে তুলে হুয়ান মুসোকে নামানো ছিল গোলকিপিং ব্যাকআপ নিশ্চিত করার অংশ। বিশ্বকাপের আগে সার্বিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে শেষ প্রীতি ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা এখন এক ভারসাম্যপূর্ণ দল, যারা একইসাথে তরুণ রক্ত এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে অপ্রতিরোধ্য।

