ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লিভারপুলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর আর্লিং হালান্ডের উল্লাস।হ্যাটট্রিক করে যেন উড়ছেন আর্লিং হালান্ড। ছবি: রয়টার্স

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজ যেন নীল জোয়ার বয়ে গেল। ডাগআউটে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্ট্যান্ডে বসে গার্দিওলা যখন খেলা দেখছিলেন, মাঠে তাঁর শিষ্যরা তখন আর্নে স্লটের লিভারপুলকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। আর্সেনালের বিপক্ষে কারাবাও কাপ জেতার পর এবার ঘরোয়া ‘ডাবল’ জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল Manchester City। আর এই জয়ের মূল কারিগর সেই চেনা ‘গোলমেশিন’ আর্লিং হালান্ড।

হালান্ড ম্যাজিক ও লিভারপুলের ‘দাঁতহীন’ রক্ষণ

ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ডেডলক ভাঙেন হালান্ড (Erling Haaland)। নিকো ও’রাইলিকে বক্সের ভেতর ভার্জিল ভ্যান ডাইক ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। বিরতির ঠিক আগে আন্টোয়ান সেমেনিয়োর ক্রসে চমৎকার হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মৌসুমের ৪৬তম গোলটি করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন—বড় ম্যাচে হালান্ডই শেষ কথা। দ্বিতীয়ার্ধে সেমেনিয়ো নিজে একটি গোল করার পর হালান্ড তাঁর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন, যা লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।

সালাহ’র দুঃস্বপ্ন

Liverpool -এর জন্য দিনটি ছিল শুধুই হতাশার। দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া মোহাম্মদ সালাহ (Salah) আজ মাঠে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, এমনকি পেনাল্টি থেকেও গোল করতে পারেননি তিনি! জেমস ট্র্যাফোর্ড বীরত্বের সাথে সালাহর সেই স্পট-কিক রুখে দেন। লিভারপুলের রক্ষণভাগের স্তম্ভ ভ্যান ডাইকও আজ ছিলেন দিশেহারা, যার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে সিটি।

আরও পড়ুন: রোবটের গিয়ারে জট: ক্লান্ত আর্লিং হালান্ড কি সত্যিই ছন্দ হারাচ্ছেন?

এক শতাব্দী প্রাচীন রেকর্ডে সিটির ভাগ

লিভারপুলের বিপক্ষে এক মৌসুমে লিগ ও কাপ মিলিয়ে টানা তিন জয়—সিটির এই কীর্তি প্রায় একশ বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এর আগে সর্বশেষ ১০ সিজন আগে ওয়েস্ট হ্যাম এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। গার্দিওলার অধীনে ওয়েম্বলি এখন সিটির জন্য ‘সেকেন্ড হোম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে আর্সেনাল বা চেলসির মতো কঠিন প্রতিপক্ষ থাকলেও, আজকের এই বিধ্বংসী ফর্ম ধরে রাখতে পারলে সিটির জয়যাত্রা থামানো কঠিন হবে।

আরও পড়ুন: ফ্যাক্ট চেক: ম্যানসিটি তারকা আর্লিং হালান্ড কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন