মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে এখন শুধুই বিদায়ের সুর। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করা হলেও ভেতরটা যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তার প্রমাণ মিলল আজ শনিবারের বোর্ড সভায়। সভা শেষ হতে না হতেই প্রভাবশালী পরিচালক ফাইয়াজুর রহমান মিতুর পদত্যাগ বিসিবির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ আর বেশিদিন টিকছে না। অচিরেই এই BCB পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একটি শক্তিশালী ‘আহ্বায়ক কমিটি’ গঠনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং সরকারের তদন্ত কমিটির সাঁড়াশি চাপের মুখেই এই চরম অস্থিরতা।
পদত্যাগের মহোৎসব: চেইন অফ কমান্ডে ধস
গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় একে একে চারজন হেভিওয়েট পরিচালকের বিদায় বিসিবিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেনের পর এনএসসি মনোনীত ইয়াসির ফয়সাল এবং সর্বশেষ ফাইয়াজুর রহমান মিতুর পদত্যাগ প্রমাণ করে—বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ওপর আস্থা হারিয়েছেন তাঁরই সহকর্মীরা।
২৫ সদস্যের বোর্ডের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ সদস্য এখন নেই। পরিচালকদের এই ‘এক্সিট প্ল্যান’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাঁরা বুঝে গেছেন বর্তমান পর্ষদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
আরও পড়ুন: বিসিবিতে ১৬ বছরের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ: ফেঁসে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা!
তদন্ত কমিটির ভীতি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
বিসিবি ভাঙার নেপথ্যে কাজ করছে গত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি নির্বাচনের কারচুপি ও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিশেষ করে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের সেই ‘নির্বাচন বয়কট’ এবং স্বচ্ছতার দাবি নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদনে যদি নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে এনএসসি আইনত এই বোর্ড ভেঙে দিতে বাধ্য হবে।
আরও পড়ুন: টালমাটাল বিসিবিতে হচ্ছেটা কী! নেপথ্যে এনএসসির তদন্ত?
কেন সরছেন পরিচালকরা?
পদত্যাগী পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারা এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (DPL) আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়া তাঁদের এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ। এছাড়া বোর্ডের অনেক পরিচালকই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
বর্তমান সভাপতি বুলবুল বিরোধী শিবিরের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখায় দলের ভেতরকার ‘জাতীয়তাবাদী’ ঘরানার পরিচালকরা নিজেদের ইমেজ রক্ষায় আগেভাগেই সরে দাঁড়াচ্ছেন। তারা চাইছেন নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ইমেজে আবারও ক্রিকেটে ফিরতে।

