বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেন এক অশান্ত আগ্নেয়গিরি। বাইরে থেকে সবকিছু শান্ত মনে হলেও ভেতরটা যে টালমাটাল, তার প্রমাণ মিলছে গত কয়েক মাসের ঘটনায়। গত অক্টোবরে ঘটা করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হতে না হতেই একে একে তিন পরিচালকের পদত্যাগ দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। আজ লজিস্টিকস কমিটির চেয়ারম্যান ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালের বিদায় সেই পালে নতুন হাওয়া দিল।
প্রশ্ন উঠছে—ব্যক্তিগত কারণ নাকি অদৃশ্য কোনো চাপ, ঠিক কী কারণে BCB-এর দায়িত্ব ছাড়ছেন প্রভাবশালী পরিচালকরা?
ইয়াসিরের বিদায়ে নতুন সমীকরণ
ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে হলেও ইয়াসিরের বিদায়টি ভিন্ন গুরুত্ব বহন করছে। তিনি ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) মনোনীত পরিচালক। অর্থাৎ সরকারের প্রতিনিধি হয়েও বোর্ডের মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই সরে দাঁড়ালেন তিনি।
যদিও ইয়াসির একে ‘একান্তই ব্যক্তিগত কারণ’ বলে দাবি করেছেন, কিন্তু এনএসসি মনোনীত হওয়ার পরও এনএসসিকে না জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াটা অনেক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে যাচ্ছে।
তদন্ত কমিটির ছায়া ও ‘অদৃশ্য’ অসন্তুষ্টি
বিসিবিতে এই পদত্যাগের মিছিল এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন গত বোর্ড নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে এনএসসি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত ১১ মার্চ গঠিত এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, তদন্তের সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখেই ইয়াসিরের সরে দাঁড়ানো।
এর আগে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষোভে আমজাদ হোসেন এবং পরিচালনগত অসন্তুষ্টি থেকে ইশতিয়াক সাদেকের বিদায়ে এটা স্পষ্ট যে, মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য কোথাও একটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
>> বিসিবিতে ১৬ বছরের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ: ফেঁসে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা!
>> নির্বাচনে ‘অনিয়ম’: তদন্ত কমিটি হওয়ায় আইসিসির ‘ভয় দেখাচ্ছে’ বিসিবি!
গুঞ্জন কি তবে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে?
বিসিবি পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, ইয়াসিরই শেষ নন; এই তালিকায় নাম লেখাতে পারেন আরও অন্তত দুই-তিনজন পরিচালক। ইয়াসির নিজে এই গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও অস্বীকারও করেননি।
লজিস্টিকস, মিডিয়া কিংবা গেম ডেভেলপমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানদের এভাবে একে একে সরে যাওয়া ক্রিকেট বোর্ডের ‘চেইন অফ কমান্ড’ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই ‘ইস্তফা-মিছিল’ কীভাবে থামান, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

