বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নির্বাচনের বিতর্ক ও অনিয়ম তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি আজ রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। গত ১১ মার্চ এনএসসি কর্তৃক গঠিত এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিলেন তারা। প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এনএসসি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব।
কাউকে দায়ী করা হয়নি
তদন্ত কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এই প্রতিবেদনে কাউকে এককভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যা ঘটেছে, তা নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন ও সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার অনুপস্থিতি ও পাল্টা অভিযোগ
তদন্ত চলাকালীন বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দি দিলেও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কমিটির ডাকে সাড়া দেননি। তদন্ত কমিটির প্রধান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা উনাকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং উনার বক্তব্য শোনার জন্য ডেকেছিলাম। আমরা অপেক্ষা করেছি, কিন্তু উনি আসেননি।”
এদিকে, তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তাঁর দাবি, বিসিবির মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর মন্ত্রণালয়ের এই তদন্ত ‘এখতিয়ার বহির্ভূত’। এছাড়া বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই তদন্তকে তিনি ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, কমিটির প্রজ্ঞাপনেই আগে থেকে সিদ্ধান্ত নির্ধারিত ছিল এবং বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ভেঙে যাচ্ছে বিসিবি! ‘বুলবুল’ পর্ষদের বিদায়ঘণ্টা
তদন্তের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ গাইডলাইন
গত বছর অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনের সময় জেলা, বিভাগ ও ক্লাব ক্যাটাগরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল একটি পক্ষ। তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বড় একটি অংশ নির্বাচন বয়কট করে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর এনএসসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়লে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিচারপতি আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য থাকলেও তা জনসমক্ষে প্রকাশের দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। তিনি বলেন,
“আমরা চেষ্টা করেছি একটি সুন্দর সুপারিশ দেওয়ার জন্য, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনগুলো স্বচ্ছ হয় এবং বোর্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা না থাকে। গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করেছি।”
আরও পড়ুন: বিসিবির এক সভায় অনেক সিদ্ধান্ত: লিটন-মিরাজে আস্থা, রফিকের ফেরা
বিসিবিতে পরিবর্তনের হাওয়া?
তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর এখন সবার নজর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দিকে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী যদি বিসিবির গঠনতন্ত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে বর্তমান পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইসাথে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ থমকে থাকা ঘরোয়া ক্রিকেট পুনরায় সচল করার বিষয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

