লরিয়েঁটের বিপক্ষে এসিস্ট করার পর উদযাপন করছেন এন্ড্রিক।দুই অ্যাসিস্টে সমালোচনার জবাব দিলেন এন্ড্রিক। গেটি ইমেজেস

ফুটবল মাঠে মাঝেমধ্যে কোচের কড়া সমালোচনাও যে টনিকের মতো কাজ করতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন এন্ড্রিক। অলিম্পিক লিওঁ কোচ পাওলো ফনসেকা যখন প্রকাশ্যে এন্ড্রিকের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু অঁজের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ম্যাচের পর এন্ড্রিকের প্রতি ফনসেকার সেই ‘কান টেনে দেওয়া’ শাসনই যেন লিওঁকে জয়ের পথে ফিরিয়েছে। লরিয়েঁটের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা এই ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন।

ফনসেকার ‘কড়া’ বার্তা

টানা ৯ ম্যাচ জয়হীন থাকা লিওঁ যখন খাদের কিনারায়, তখন কোচ ফনসেকা সরাসরি এন্ড্রিককে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেছিলেন। কোনো রাখঢাক করেন তিনি। কী বলেছিলেন ফনসেকা?

তিনি বলেছিলেন, “আমি ওর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নই। ব্রাজিল সফর থেকে ফেরার পর সে ক্লান্ত ছিল ঠিকই, কিন্তু ওর আরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। ওকে আমাদের প্রয়োজন, ওকে আরও নিবেদন দেখাতে হবে।” কোচের এই প্রকাশ্য সমালোচনা এন্ড্রিকের জন্য ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ।

মাঠে নেমে ৪ মিনিটের ম্যাজিক

লরিয়েঁটের বিপক্ষে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর বিরতির পরপরই তোলিসো ও মাঙ্গালার সঙ্গে এন্ড্রিককে মাঠে নামান ফনসেকা। আর মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায় নিজের জাত চেনান ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ। তোলিসোর লম্বা বলটি ডি-বক্সের ডান কোণায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান তিনি, যা থেকে হেডে গোল করে দলকে লিড এনে দেন ইয়ারেমচুক।

লিওঁর দ্বিতীয় গোলেও ছিল এন্ড্রিকের বিশাল অবদান। আফনসো মোরেরার পাস থেকে জায়গা তৈরি করে আবদুলায়ে ফায়েকে কাটিয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন তিনি। গোলরক্ষক এমভোগো সেটি কোনোমতে প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে হেডে গোল নিশ্চিত করেন তোলিসো।

‘ক্লাচ প্লেয়ার’ যখন দলের ত্রাতা

গত ২৫ জানুয়ারি মেতজের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর লিগ ওয়ানে দীর্ঘ দুই মাস গোলের দেখা না পেলেও এন্ড্রিক তার ‘ক্লাচ প্লেয়ার’ (যিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে ওঠেন) খ্যাতি ধরে রেখেছেন। লিওঁর জার্সিতে ১২৩২ মিনিটে তার ৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট রয়েছে—অর্থাৎ প্রতি ১০২ মিনিটে তিনি একটি গোলে অবদান রাখছেন।

কোচ ফনসেকা তার কৌশলের সফলতায় খুশি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা আদায়ের জন্য আমাকে কৌশল খুঁজতে হয়। আমরা ওর প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলাম এবং সে দারুণভাবে ফিরে এসেছে। এটি দলের জন্য ইতিবাচক।”

এন্ড্রিকের পাশে সতীর্থরা

মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও এন্ড্রিক পাচ্ছেন সতীর্থদের সমর্থন। সাবেক মায়োর্কা তারকা ডোমিনিক গ্রিফ বলেন, “এন্ড্রিক দারুণ প্রতিভাবান, কিন্তু মানুষ ভুলে যায় ওর বয়স মাত্র ১৯। ও এখনো একটা বাচ্চা। হয়তো ওর ওপর প্রত্যাশার চাপটা কিছুটা অন্যায্য ছিল।”

ওরেল মাঙ্গালার কণ্ঠেও ছিল প্রশংসা, “সে দেখিয়েছে তার সামর্থ্য কতটা। এখন শুধু পরিপক্কতা আর কখন ঝুঁকি নিতে হবে তা বোঝার অপেক্ষা। সে স্টেডিয়ামকে আলোকিত করতে পারে।”

ফনসেকার সমালোচনাকে আশীর্বাদ হিসেবে নিয়ে এন্ড্রিকের এই প্রত্যাবর্তন লিওঁ সমর্থকদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। ‘ক্লাচ টাইম’ ফিরে এসেছে, এন্ড্রিকও ফিরে এসেছেন স্বমহিমায়।