আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ম্যারাডোনাম্যারাডোনা। ছবি: গেটি ইমেজেস

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জট কাটছে না। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার থেকে সান ইসিদ্রোর একটি আদালতে নতুন করে শুরু হচ্ছে তাঁর মৃত্যু মামলার বিচারিক কার্যক্রম। গত বছর বিচারকের পদত্যাগের কারণে একটি মামলা বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পর, অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে Maradona’র মেডিকেল টিমের সাত সদস্যকে পুনরায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।

অবহেলার অভিযোগে কাঠগড়ায় যারা

১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তির মৃত্যুর পেছনে তাঁর চিকিৎসকদের ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ ছিল বলে দাবি প্রসিকিউটরদের। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন স্নায়ুশল্যবিদ লিওপোল্ডো লুকে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্টিনা কোসাশভ, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস আনহেল দিয়াজ এবং চিকিৎসক ন্যান্সি এডিথ ফোরলিনি।

এ ছাড়াও নার্স রিকার্ডো আলমিরন, প্রধান নার্স মারিয়ানো আরিয়েল পেরোনি এবং চিকিৎসক পেড্রো পাবলো দি স্পাগনাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে শুরু থেকেই এই মেডিকেল টিম নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে।

পুরোনো মামলা বাতিল ও নতুন শুনানি

২০২৫ সালের মার্চে প্রথম বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও দুই মাসের মাথায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন বিচারক জুলিয়েটা মাকিনতাচ আদালতের নিয়ম ভেঙে চেম্বারে বসে একটি প্রামাণ্যচিত্রের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ায় তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সেই জটিলতা কাটিয়ে এবার নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে শুনানি, যেখানে প্রায় ১০০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন ম্যারাডোনার সন্তান এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ক্লডিয়া ভিলাফেন।

আরও পড়ুন: ম্যারাডোনার হৃৎপিণ্ড এখনো পুলিশের জিম্মায়!

‘ভয়ঙ্কর নাট্যশালা’ বনাম ‘অনিবার্য মৃত্যু’

তদন্তকারী বোর্ড ২০২১ সালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ম্যারাডোনার চিকিৎসা ছিল ‘অনুপযুক্ত, ত্রুটিপূর্ণ এবং বেপরোয়া’। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ম্যারাডোনা যেখানে সুস্থ হচ্ছিলেন, সেই বাড়িটি ছিল মূলত একটি ‘ভয়ঙ্কর নাট্যশালা’ (theatre of horror), যেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রোটোকল মানা হয়নি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ম্যারাডোনার দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির কারণে তাঁর মৃত্যু ছিল অনিবার্য, এখানে চিকিৎসকদের কোনো হাত নেই।

আরও পড়ুন: ম্যারাডোনা দুটি ঘড়ি কেন পরতেন—রোনালদো জানালেন আসল কারণ

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পুরো আর্জেন্টিনা যখন ম্যারাডোনার স্মৃতিতে এখনো অশ্রুসজল, তখন এই বিচার প্রক্রিয়া দেশটির মানুষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।