আউট হয়ে হতাশ সাইফ হাসান। তাকিয়ে আছেন লিটন দাস।সাইফের এই হতাশা পরে গোটা বাংলাদেশকেই ঘিরে ধরে। ছবি: এএফপি

নিউজিল্যান্ডের এই দলটিকে নিয়ে সিরিজ শুরুর আগে রসিকতা করে বলা হচ্ছিল ‘বি’ বা ‘সি’ দল। অথচ মাঠের লড়াই শেষে দেখা গেল, খর্বশক্তির এই কিউইরাই বাংলাদেশের জন্য ‘যথেষ্ট’! পাকিস্তান সুপার লিগ (PSL) থেকে ক্রিকেটারদের উড়িয়ে এনে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েও ঘরের মাঠে ২৬ রানের অবিশ্বাস্য এক হার দিয়ে সিরিজ শুরু করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মিরপুরের মন্থর উইকেটে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২২১ রানেই গুটিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমন হারের পরও মিরাজ বলছেন, ‘হতেই পারে’!

বোলিংয়ে দাপট, ফিল্ডিংয়ে আক্ষেপ

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডকে শুরুতে চেপে ধরেছিলেন শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ মুহূর্তের চোটে সুযোগ পাওয়া শরীফুল ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দেন।

তবে আক্ষেপের নাম ছিল ফিল্ডিং। ১ রানে থাকা উইল ইয়াং ও ব্যক্তিগত ২৭ রানে ডিন ফক্সক্রফটের সহজ ক্যাচ মিস না করলে কিউইদের স্কোর হয়তো ২০০-ও পার হতো না। হেনরি নিকোলসের ৬৮ ও ম্যাচ সেরা ফক্সক্রফটের ৫৯ রানের ইনিংসে ভর করে নিউজিল্যান্ড ২৪৭ রান সংগ্রহ করে।

ব্যাটিং বিপর্যয় ও মন্থর গতির মাশুল

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর সাইফ হাসান (৫৭) ও লিটন দাসের ৪৬ রানের ইনিংসে ভর করে জয়ের পথে ছিল টাইগাররা। কিন্তু মাঝের ওভারে অবিশ্বাস্য মন্থর ব্যাটিংয়ে নিজেদের ওপর নিজেরাই চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: শরীফুলের দারুণ বোলিং: বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

বিশেষ করে আফিফ হোসেন ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭৯ বলের জুটিতে বাউন্ডারি আসে মাত্র ১টি! টানা ১১ ওভার কোনো বাউন্ডারি না আসায় আস্কিং রানরেট পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়। আফিফ ২৭ রানে ফেরার পর মিরাজ (৬) ও রিশাদ (৪) দ্রুত বিদায় নিলে জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।

তাওহীদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে ৬০ বলে ৫৫ রান করলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ৩৮ রান তুলতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানে থামে স্বাগতিকরা।

মিরাজের চোখে ‘সবই স্বাভাবিক’

ম্যাচ শেষে অবিশ্বাস্য এই হার নিয়ে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যেন কিছুটা নির্ভার। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে এমনটা হয়। সব খেলোয়াড়ই খুব উত্তেজিত (এক্সাইটেড) ছিল এবং সবাই জিততে চেয়েছিল, কিন্তু মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে।”

পরাজয়ের গ্লানি থাকলেও মিরাজ ইতিবাচক দিক খুঁজছেন বোলিংয়ে। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পাওয়া শরীফুল ইসলাম-এর পারফরম্যান্সকে তিনি ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছেন। তবে ক্যাচ মিসের মাশুল যে দিতে হয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেন অধিনায়ক।

আরও পড়ুন: মুশফিক, সাকিব, তামিম—৩ জনকে নিয়েই মুখ খুললেন মিরাজ

মিরাজ বলেন, “আমার মনে হয় আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি। এই উইকেটে ২৭০ রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। উইকেটটা বেশ ভালো ছিল এবং আমাদের বোলাররা দারুণ কাজ করেছে।”

“আমরা যদি দুইটা ক্যাচ নিতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ওদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারতাম। এটা আমাদের দলের ছোট একটা ভুল ছিল। তবে আমি মনে করি আমাদের অনেক ইতিবাচক দিকও আছে।”

সক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯; শরীফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪, তাসকিন ২/৫০)।

বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, হৃদয় ৫৫, লিটন ৪৬; টিকনার ৪/৪০, স্মিথ ৩/৪৫)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।