স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চিন্তিত মুখে লিয়াম রোজনিয়র।চেলসিতে লিয়াম রোজনিয়রের চিন্তিত মুখে কী হাসি ফুটবে? ছবি: গোল ডটকম

চেলসির বর্তমান মৌসুম এখন এক সুতোর ওপর ঝুলে আছে—যদিও তাদের সাম্প্রতিক ম্যাড়মেড়ে পারফরম্যান্স দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় এবং লিগে গত ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোনো জয় না পাওয়া ব্লুজদের এই মৌসুমকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আজ শনিবার রাতে পুনর্জীবিত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে পরাজয় লিয়াম রোজনিয়রের দলকে এক দীর্ঘস্থায়ী পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

রোজনিয়রের শুরু বনাম বর্তমানের রূঢ় বাস্তবতা

লিয়াম রোজনিয়রের অধীনে চেলসির সেই উজ্জ্বল সূচনা এখন সুদূর অতীত। যদিও এফএ কাপের সেমিফাইনালে ওঠা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু সেটিও এসেছে তুলনামূলক সহজ ড্রয়ের বদৌলতে। গত ৪ মার্চ অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে শেষ লিগ জয়ের পর থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বসন্তটা হয়েছে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক।

চ্যাম্পিয়নস লিগ: পিএসজির কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায়।

লিগ ফর্ম: নিউক্যাসল, এভারটন এবং ম্যানচেস্টার সিটির কাছে টানা তিন ম্যাচে ৭-০ ব্যবধানে পরাজয়। গত ২৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম চেলসি গোল না করে লিগে টানা তিন ম্যাচ হারল।

আরও পড়ুন: ড্রিবলিং থেকে চেলসির নায়ক: ব্রাজিলিয়ান ‘জিনিয়াস’ এস্তেভাওয়ের রূপকথা

পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

শনিবারের প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বর্তমানে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যারা চেলসির চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে রেড ডেভিলরা শীর্ষ পাঁচের মধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। চেলসি বর্তমানে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও তাদের ঠিক নিচেই ব্রেন্টফোর্ড এবং এভারটন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

রোজনিয়রের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, সামনের দিনগুলোতে তাদের ব্রাইটন, লিভারপুল এবং টটেনহ্যামের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে।

আরও পড়ুন: এক্সপ্লেইনার: জাইমা রহমান কী চেলসিতে সুযোগ পেয়েছিলেন?

ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা ও এনজো ফার্নান্দেজ

মাঠের বাইরের পরিস্থিতিও রোজনিয়রের জন্য অনুকূল নয়। রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার গুঞ্জন তুলে দুই ম্যাচের অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজ আজ দলে ফিরলেও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কতটা শান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এর আগে মার্ক কুকুরেয়াও ক্লাবের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

চেলসি সমর্থকদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালের সেই ভয়াবহ এপ্রিলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন গ্রাহাম পটারের বিদায়ের পর ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অধীনে ক্লাবটি ১১তম থেকে ১২তম স্থানে নেমে গিয়েছিল।

রোজনিয়রের ২১ ম্যাচের পরিসংখ্যান এখন পটারের সেই দুঃসহ সময়ের রেকর্ডের সমান। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়ো ধ্বনি সেই পুরনো বিষাক্ত পরিবেশ ফেরারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ‘ব্ল্যাকলিস্টে’ র‌্যাশফোর্ডসহ যে ৬ ফুটবলার

ম্যানেজমেন্ট কি রোজনিয়রের পাশেই থাকছে?

দ্য অ্যাথলেটিকের রিপোর্ট অনুযায়ী, মালিকপক্ষ এখনই রোজনিয়রকে সরানোর কথা ভাবছে না। শীর্ষ পাঁচে থাকতে ব্যর্থ হলেও তাকে আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হলে এবং এফএ কাপে সিটি বা লিডসের কাছে হেরে শিরোপাহীন থাকলে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে পারে।

ম্যাচ ফ্যাক্টস:

ভেন্যু: স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, লন্ডন।

সময়: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (শনিবার রাত)।

পরিসংখ্যান: ইউনাইটেড তাদের শেষ লিগ ম্যাচে লিডসের কাছে হারলেও চেলসির বিপক্ষে শেষ দেখায় ২-১ গোলে জিতেছিল।