ডোপ টেস্ট কেলেঙ্কারিতে মোহাম্মদ নওয়াজের ক্যারিয়ার সংশয়ে।ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় মোহাম্মদ নওয়াজের ক্যারিয়ার হুমকিতে। ছবি: এএফপি

পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এল মোহাম্মদ নওয়াজের (Mohammad Nawaz) ডোপ কেলেঙ্কারি। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার খবর প্রকাশের পর এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্যমতে, নওয়াজের শরীরে ‘রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ’ বা বিনোদনমূলক মাদক পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় নওয়াজের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসায় আইসিসি (ICC) ইতিমধ্যে পিসিবিকে বিষয়টি অবহিত করেছে।

বিশ্বকাপের সেই আসরে পাকিস্তানের হয়ে সাতটি ম্যাচেই একাদশে ছিলেন নওয়াজ। বল হাতে সাত উইকেট নিলেও ব্যাট হাতে মাত্র ১৫ রান করেছিলেন তিনি। সেই টুর্নামেন্ট থেকেই মূলত এই বিপত্তির শুরু।

ভেস্তে গেল সারের সঙ্গে চুক্তি

ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নওয়াজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ওপর। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে’ খেলার জন্য কাউন্টি ক্লাব সারের (Surrey) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।

সপ্তাহ দুয়েক আগেই পিসিবি তাকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছিল। কিন্তু মাদকের এই খবর সামনে আসার পর সারের সঙ্গে তার চুক্তিটি বাতিল হয়ে গেছে। যদিও ক্লাবটির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।

আরওপ ড়ুন: মরুর বুকে পাকিস্তানের পিএসএল! জেদ্দায় হচ্ছে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম

পিএসএলে বর্তমান অবস্থা

মোহাম্মদ নওয়াজ বর্তমানে চলমান পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) মুলতান সুলতান্সের (Multan Sultans) হয়ে খেলছেন। এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ব্যাট হাতে ৩৬ রান এবং বল হাতে ৬ উইকেট শিকার করেছেন।

পিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি পিএসএলে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিসিবির কঠোর অবস্থান

পিসিবির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর তারা অভ্যন্তরীণ ডিসিপ্লিনারি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। মোহাম্মদ নওয়াজের মেডিকেল ইতিহাস এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আইসিসিকে রিপোর্ট প্রদান করবে পিসিবি।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।