আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICc) জেনারেল ম্যানেজার পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন ওয়াসিম খান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক এই প্রধান নির্বাহী টানা চার বছর বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দায়িত্ব পালনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী জুনের শেষ দিকে তিনি বর্তমান পদ ত্যাগ করবেন এবং জুলাই থেকে নতুন কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
২০২২ সালের মে মাসে জিওফ অ্যালারডাইসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ওয়াসিম খান। অ্যালারডাইস আইসিসির প্রধান নির্বাহী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর ওয়াসিম জেনারেল ম্যানেজারের চেয়ারে বসেন।
তাঁর চার বছরের মেয়াদে বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগের জয়জয়কারের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সফরসূচি (FTP) সফলভাবে সাজিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে, প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটের জন্য আলাদা এফটিপি চালুর পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
ইতিহাস গড়া ওয়াসিম খান
১৯৭১ সালে বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া ওয়াসিম খান ছিলেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম কাউন্টি ক্রিকেটার। খেলোয়াড়ি জীবনে ওয়ারউইকশায়ার, সাসেক্স এবং ডার্বিশায়ারের হয়ে ৫৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ৩০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল, যেখানে সেই মৌসুমে প্রায় ৫০ গড়ে রান করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটের ‘মানিব্যাগ’ আইসিসি: টাকা আসে কোথা থেকে, কার পকেটে যায় কত?
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ওয়াসিম খান একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আইসিসিতে আসার আগে তিনি প্রায় তিন বছর পিসিবির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে লেস্টারশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব এবং ‘চান্স টু শাইন’-এর সিইও হিসেবেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ প্রশাসকের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন জোর গুঞ্জন চলছে।
আইসিসিতে চলছে রদবদল
ওয়াসিম খানের পদত্যাগ আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে চলমান রদবদলের একটি অংশ মাত্র। গত দুই বছরে আইসিসির বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কর্মকর্তা বিদায় নিয়েছেন। সাবেক সিইও জিওফ অ্যালারডাইসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সঞ্জোগ গুপ্ত।
আরও পড়ুন: পিচ ও আউটফিল্ডে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আইসিসির রেটিংয়ে উদ্বেগ
এ ছাড়া হেড অব ইভেন্টস ক্রিস টেটলি এবং আকসুর (ACU) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের জায়গায় এসেছেন যথাক্রমে গৌরব সাক্সেনা এবং অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। শীর্ষ পর্যায়ের এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বিশ্ব ক্রিকেটের প্রশাসনে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

