চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও দাপটের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা। নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি আর মোস্তাফিজুর রহমানের ৫ উইকেটের ওপর ভর করেই এই জয় পায় স্বাগতিকরা।
শান্তর সেঞ্চুরি ও লড়াকু পুঁজি
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ তামিমের (১) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাসের রেকর্ডগড়া ১৬০ রানের জুটিতে বিপর্যয় সামাল দেয় দল।
লিটন ৯১ বলে ৭৬ রান করে আউট হলেও শান্ত তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ১১৯ বলে ১০৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৩৩ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: শান্তর সেঞ্চুরি ও লিটনের ফিফটি: নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের চ্যালেঞ্জ
মোস্তাফিজের ‘ফাইফার’ ও কিউইদের ধস
২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোস্তাফিজুর রহমানের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই হেনরি নিকোলসকে (৪) ফিরিয়ে উৎসবের শুরু করেন ফিজ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় কিউইরা। উইল ইয়ং (১৯) ও অধিনায়ক টম ল্যাথাম (৫) দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
মাঝপথে নিক কেলি (৫৯) ও ডিন ফক্সক্রফট (৭৫) লড়াই করার চেষ্টা করলেও মোস্তাফিজের কাটারে তারা পরাস্ত হন। বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ৩০ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট, যা কিউইদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
একনজরে ম্যাচ পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ: ২৬৫/৮ (৫০ ওভার); শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*।
নিউজিল্যান্ড: ২১০/১০ (৪৪.৫ ওভার); ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
বোলিং: মোস্তাফিজ ৫/৩০, মিরাজ ১/৩৬, শরিফুল ১/৪৭।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ‘ডট বল সিনড্রোম’!
সিরিজ জয় ও আত্মবিশ্বাস
এই জয়ের ফলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

