ডট বলের পর সাইফ হাসানের হতাশার অভিব্যক্তি।প্রথম ওয়ানডেতে সাইফ হাসান ভালো ব্যাটিং করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।

মিরপুরের সবুজ গালিচায় ২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ছিল ৩ উইকেটে ১২৪ রান। হাতে ৭ উইকেট, জয়ের জন্য প্রয়োজন ওভারপ্রতি ৫ রানের সামান্য বেশি—এমন সমীকরণ যেকোনো আধুনিক ক্রিকেট দলের জন্য জলভাত। গ্যালারিতে তখন উৎসবের উন্মাদনা, কিউই বধের সুবাস। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দটুকু ছিল আসলে এক বিষাদময় পরিণতির পূর্বাভাস!

১৬৬টি ডট বল!

মাঝের ওভারে বাংলাদেশ দল যেন হঠাৎই কোনো এক রহস্যময় ঘোরে তলিয়ে গেল। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা বল হাতে বিষ ঢাললেন না কি ব্যাটসম্যানরা নিজেরাই হাত-পা গুটিয়ে বসে রইলেন, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো, টানা ৯০টি বল (১৫ ওভার) কোনো বাউন্ডারির দেখা পায়নি বাংলাদেশ!

পুরো ইনিংসে ২৯১ বল খেলে ১৬৬টিই ছিল ডট বল। অর্থাৎ ইনিংসের ৫৬ শতাংশ বলেই কোনো রান নিতে পারেননি টাইগাররা। ম্যাচ শেষে ওপেনার সাইফ হাসান এই ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

সাইফ বলেন, “উইকেট চ্যালেঞ্জিং ছিল ঠিকই, তবে দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। এই জায়গায় উন্নতি করতে পারলে দলের জন্য অবশ্যই ভালো হবে।”

আরও পড়ুন: ২৬ রানের অবিশ্বাস্য হার: মিরাজ বলছেন ‘হতেই পারে’!

মিডল অর্ডার: এক ভঙ্গুর মেরুদণ্ড

আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে মিডল অর্ডারকে বলা হয় দলের মেরুদণ্ড। কিন্তু বাংলাদেশের সেই মেরুদণ্ড এখন ক্ষয়ে যাওয়া এক কঙ্কাল মাত্র। গত এক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ১১ ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারের ১৩ জন ব্যাটসম্যানের কেউই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। সম্মিলিত গড় মাত্র ২৩.৪৪।

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর কথা না হয় এক পাশে সরিয়ে রাখলেন। ওয়ানডে খেলা সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে কেবলমাত্র কানাডা! মানে সর্বনিম্ন অবস্থানেই আছেন টাইগাররা।

আরও পড়ুন: শরীফুলের দারুণ বোলিং: বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড

তাওহীদ হৃদয় বনাম বাকিরা

এই ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম তাওহীদ হৃদয়। গত এক বছরে ১০ ইনিংসে তিনি ব্যাট করেছেন ৪১.৩৩ গড়ে। মিডল অর্ডারের সাতটি হাফ সেঞ্চুরির পাঁচটিই তাঁর ব্যাট থেকে আসা। কিন্তু একার লড়াইয়ে যে যুদ্ধ জেতা যায় না, তার প্রমাণ আবারও মিলেছে কালকের ম্যাচে।

অন্যদিকে, সমাধানের খোঁজে ফেরানো হয়েছিল আফিফ হোসেনকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করে ফিরলেও জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ‘পুরোনো অসুখ’ যেন আরও প্রকট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের জন্য যখন রানের গতি বাড়ানো দরকার, তখন তিনি খেললেন ৪৯ বলে ২৭ রানের এক মন্থর ইনিংস।

২০২২ সালের আগস্টের পর ১৭ ইনিংসে আফিফ হোসেনের নেই কোনো ফিফটি। অন্তত ১০ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বনিম্ন গড়ের মালিকও এখন তিনি!

আফিফ কিংবা অন্য কাউকে সমাধান ভেবে দলে নেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স সেই একই বৃত্তে বন্দি। ডট বলের রোগ আর মিডল অর্ডারের এই ‘দুর্ভোগ’ কবে কাটবে, সেই উত্তর বিসিবি বা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছেও হয়তো নেই।