সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস।সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস।

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল এক বড় ক্ষত। তবে সেই দুঃস্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাসের চোখে-মুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের হাসি। সর্বশেষ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ না করা থেকে খেলোয়াড়রা ‘মুভ অন’ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন স্পষ্টভাবে জানান, দল এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছে।

বিশ্বকাপ থেকে ‘মুভ অন’

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারাটা ছিল হতাশাজনক। লিটন বলেন, “হ্যাঁ, আমার মনে হয় দল মুভ অন করেছে। বিশ্বকাপের ওই সময়ে আমরা টুর্নামেন্ট খেলেছি এবং খেলোয়াড়রা সেখানে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

তিনি বিশ্বাস করেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিটি বলই গুরুত্বপূর্ণ এবং খেলোয়াড়রা জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবেন। লিটন আরও যোগ করেন, যেহেতু ২০২৮ বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে হবে (এশিয়ায় নয়), তাই কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও অধিনায়কত্ব

লিটন দাসের ওপর আবারও আস্থা রেখেছে বিসিবি। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই থাকছে। নিজের দায়িত্ব নিয়ে লিটন বলেন, “বোর্ড মনে করেছে আমি যোগ্য, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আমার কাজটা ঠিকঠাক করার চেষ্টা করব।”

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ নিয়ে লিটন দাসের ‘নো কমেন্টস’, বিপিএলে বিদায়ে সময় কাটবে ‘বিন্দাস’

ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও নিজের দর্শন পরিষ্কার করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে আক্রমণাত্মক হতে গেলে ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকে, আর সেই ব্যর্থতা মেনে নিয়েই সফল হওয়ার পথে হাঁটতে চান এই ওপেনার। নিজের কিপিং এবং ব্যাটিং নিয়ে তিনি জানান, উইকেটে সময় কাটানোই বড় রান পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

পেস আক্রমণে পরীক্ষা ও তরুণদের সুযোগ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। লিটনের মতে, সামনে অনেক টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ থাকায় তাঁদের চোটমুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডলের মতো নতুন মুখ। লিটন মনে করেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই দলে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং তরুণদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।

আরও পড়ুন:
ক্ষুব্ধ লিটন, কাঠগড়ায় নির্বাচকরা

২০২৮ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন থেকেই

লিটন দাসের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের বিশ্বকাপ। তিনি মনে করেন, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আগে দলের ভেতর যে চমৎকার বন্ডিং তৈরি হয়েছিল, সেটি ধরে রাখা জরুরি। ওশেনিয়া অঞ্চলের কন্ডিশনে ভালো করতে হলে এখন থেকেই একটি শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরি করতে হবে।

লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল কি পারবে নতুন করে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রতিষ্ঠিত করতে? কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজই হবে সেই পথচলার প্রথম বড় পরীক্ষা।