দেশের ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশসেরা মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। আগামীকাল কিংস অ্যারেনায় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির বিপক্ষে ফর্টিস এফসির জার্সিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলবেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
বিদায়ের আগে আজ ফর্টিস ক্লাব হাউসে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন মামুনুল ইসলাম। দুই দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় দেশের ফুটবলে অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। বিদায়বেলায় তিনি বলেন, “ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম, খ্যাতি, অর্থ, ট্রফি—সবই জুটেছে। এখন শুধু ফুটবলের ঋণ শোধ করার পালা।”
ব্রাদার্স থেকে ফর্টিস: এক দীর্ঘ যাত্রা
২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে পেশাদার ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছিল মামুনুল ইসলামের। এরপর গত ২০ বছরে দেশের ১১টি বড় ক্লাবে খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে শেখ জামালের হয়ে ৩টি লিগ শিরোপা ও ২টি ফেডারেশন কাপ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের মাঝমাঠ শাসনের পর ক্যারিয়ারের শেষবেলায় তিনি যোগ দিয়েছিলেন ফর্টিস এফসিতে।
জাতীয় দলে এক যুগ ও এসএ গেমস জয়
২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর টানা এক যুগ জাতীয় দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন মামুনুল। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি লাল-সবুজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের হয়ে ৫৯ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৩টি।
তবে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১০ সালে ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে এসএ গেমসে সোনা জয়। ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ঘরোয়া লিগে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ফুটবলকে বিদায় বলছেন বাংলাদেশের হয়ে ৫৯ ম্যাচ খেলা মামুনুল
আইএসএল ও দুই বড় আক্ষেপ
প্রথম বাংলাদেশি ফুটবলার হিসেবে ভারতের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) খেলার বিরল গৌরব অর্জন করেছিলেন মামুনুল ইসলাম। অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (ADK) হয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ক্যারিয়ারে ১৬টি ট্রফি জিতলেও দুটি আক্ষেপ তাকে আজীবন পোড়াবে।
তিনি বলেন, “সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা এবং আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন টিমের মেম্বার হয়েও প্লেইং টাইম না পাওয়া—এই দুটি আক্ষেপ যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন থেকে যাবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কোচিংয়েই নজর
ফুটবল থেকে দূরে থাকা মামুনুল ইসলামের জন্য কষ্টের। তাই বুট জোড়া তুলে রাখলেও মাঠের পাশেই থাকতে চান তিনি। ইতিমধ্যে এ লাইসেন্সধারী কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। আগামীতে তাঁকে ডাগআউটে কোচের ভূমিকায় দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

