টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্নে বিভোর পিএসজি সম্প্রতি ‘WHOOP’ নামক একটি পরিধানযোগ্য (wearable) ফিটনেস প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, টেনিস খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি সুবিধা বা ‘কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ’ দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনসহ প্রধান গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলোতে এই ডিভাইসটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ফুটবলে এই প্রযুক্তির ব্যবহার পিএসজিকে শিরোপা লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কী এই ‘WHOOP’ প্রযুক্তি?
এটি মূলত একটি সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক ফিটনেস টেকনোলজি যা খেলোয়াড়দের হৃদস্পন্দন (Heart Rate), হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি (HRV), ঘুম, শারীরিক চাপ (Strain) এবং মানসিক চাপের নিখুঁত তথ্য দেয়।
এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দেয় যে, তাদের কতটুকু বিশ্রাম প্রয়োজন বা অনুশীলনে ঠিক কতটা চাপ নেওয়া উচিত।
টেনিসে কেন নিষিদ্ধ?
টেনিসের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতে, এই প্রযুক্তি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সম্পর্কে রিয়েল-টাইম ডেটা দেয়, যা খেলার মাঠে অনৈতিক সুবিধা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে প্রফেশনাল টেনিস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (PTPA) মেডিকেল ডিরেক্টর ড. রবি সিক্কা ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
তিনি মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা নয় বরং বিজ্ঞানসম্মত নীতিমালার মাধ্যমে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। বর্তমানে কার্লোস আলকারাজের মতো তারকারা ভবিষ্যতে এটি ব্যবহারের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।
আরও পড়ুন: প্যারিসের রূপকথা: ৬৬ বছর পর ৯ গোল, এ যেন শৈল্পিক থ্রিলার!
পিএসজির কৌশল ও অন্যান্য খেলা
পিএসজি শুধু তাদের খেলোয়াড়দের জন্যই এই ডিভাইস নিশ্চিত করেনি, বরং পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে এর বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তিও করেছে। এর আগে ফর্মুলা ওয়ান জায়ান্ট ফেরারির ড্রাইভার এবং ক্রু মেম্বারদের পারফরম্যান্স ট্র্যাকিংয়ের জন্য এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ব্যায়ামের সময় সপ্তাহে ৯০ মিনিট এবং ঘুমের সময় দিনে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

