চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার পর আর্সেনালের কোচ-খেলোয়াড়দের উল্লাস।ফাইনাল নিশ্চিতের পর উল্লাস যেন আর বাধ মানছে না আর্সেনালের! ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরল উত্তর লন্ডনের আভিজাত্য। দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয়ভাবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে বুদাপেস্টের টিকিট নিশ্চিত করল গানার্সরা। দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানের এই জয় কেবল একটি জয় নয়, বরং প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে থাকা আর্সেনালের জন্য এটি এক নতুন যুগের সূচনা।

নিঃশব্দ ঘাতক হিসেবে আর্তেতার শিষ্যরা

এবারের মৌসুমে সবার নজর ছিল আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা খরা কাটানোর দিকে। ম্যানচেস্টার সিটির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চাপে চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের দুর্দান্ত পথচলা অনেকটা প্রচারের আড়ালেই ছিল। কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। মঙ্গলবার রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বুকায়ো সাকার প্রথমার্ধের একমাত্র গোলটিই ব্যবধান গড়ে দেয়।

ম্যাচ শেষে ডেক্লান রাইস তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “এই প্রতিযোগিতায় আমরা যা করেছি, তাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা প্রতিটি ধাপ উপভোগ করছি। গোল করার পরই আমি জানতাম আমরা জিততে যাচ্ছি, কারণ আমাদের মধ্যে বিশেষ কিছু তৈরি হচ্ছিল।”

আরও পড়ুন:
১৩ বার রিপ্লে! আর্সেনালের পেনাল্টি বাতিল নিয়ে যা বলল উয়েফা

রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের অনন্য মাইলফলক

আর্সেনালের এই ফাইনালের যাত্রাটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই রাজকীয়। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে তারা ফাইনালে উঠেছে। পথে তারা বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইন্টার মিলানের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

অপরাজিত যাত্রা: চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত আর্সেনাল, যা ক্লাব ইতিহাসের দীর্ঘতম রেকর্ড। এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে তারা টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ফাইনালে খেলেছিল।

রক্ষণভাগের ইস্পাত কঠিন দেয়াল: ১৪ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই কোনো গোল হজম করেনি গানার্সরা। টুর্নামেন্টে এত বেশি ক্লিন শিট আর কোনো দল রাখতে পারেনি।

এমিরেটসে আবেগের জোয়ার ও আর্তেতার গর্ব

ম্যাচ শুরুর আগেই সমর্থকরা যেভাবে ফ্লেয়ার আর স্লোগানে টিম বাসকে স্বাগত জানিয়েছে, তাতে মুগ্ধ মিকেল আর্তেতা।

তিনি বলেন, “আমরা একসাথে আবার ইতিহাস গড়লাম। এই ক্লাবের সাথে জড়িত সবার জন্য আমি গর্বিত। এমিরেটসের এমন পরিবেশ আমি আগে কখনো দেখিনি। ২০ বছর পর আবার আমরা ফাইনালে, এটি অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।”

আর্তেতা এই ম্যাচে ১৯ বছর বয়সী তরুণ মাইলস লুইস-স্কেলিকে খেলিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া ভিক্টর গায়োকেরেসের পারফরম্যান্স সাকার গোলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ জয়ের হাতছানি

ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের মাঠে পয়েন্ট হারানোয় প্রিমিয়ার লিগের ভাগ্য এখন আর্সেনালেরই হাতে। ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা আর্সেনাল এখন লিগ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ—উভয় ট্রফিই জয়ের স্বপ্ন দেখছে।

যদি তারা এটি অর্জন করতে পারে, তবে তা হবে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। বুদাপেস্টের ফাইনালে এখন অপেক্ষা শুধু শেষ বাঁশির, যেখানে ইউরোপ জয়ের মুকুট পরতে উন্মুখ হয়ে আছে উত্তর লন্ডনের এই দল।

আরও পড়ুন:
বড় ফাইনালে আর্সেনাল: ‘নিয়ারলি-মেন’ থেকে চ্যাম্পিয়ন? ‘কোয়াড্রুপল’ স্বপ্ন!