গোলের পর উসমান দেম্বেলের সঙ্গে সতীর্থদের উল্লাস।সতীর্থদের সঙ্গে উসমান দেম্বেলের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল লুইস এনরিকের প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বায়ার্ন মিউনিখের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লড়াই করে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে প্যারিসের ক্লাবটি। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট আর্সেনাল।

প্রথম লেগে প্যারিসে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর মিউনিখের মাঠে লড়াইটা ছিল স্নায়ুচাপের। বায়ার্নের হয়ে হ্যারি কেন ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে মৌসুমে নিজের ৫৫তম গোলটি করলেও, তা ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের জন্য কোনো সান্ত্বনা দিতে পারেনি। দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে ফাইনালের টিকিট হাতে পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই।

ম্যাচের লড়াই: দেম্বেলে ও কেনের গোল

ঘরের মাঠে বায়ার্ন যখন ফেরার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় বড় ধাক্কা দেয় পিএসজি। জর্জিয়ান তারকা ‘জাদুকর’ খিচা কাভারাস্কেইয়ার এক দুর্দান্ত দৌড় ও ক্রসে বল পেয়ে বুলেট গতির শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন উসমান দেম্বেলে। শুরুর এই গোলই বায়ার্নকে মানসিকভাবে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন:
প্যারিসের রূপকথা: ৬৬ বছর পর ৯ গোল, এ যেন শৈল্পিক থ্রিলার!

প্রথমার্ধে বায়ার্ন পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারির সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হয়। ভিতিনহার ক্লিয়ার করা বল জোয়াও নেভেসের হাতে লাগলে নিয়ম অনুযায়ী তা পেনাল্টি হয়নি। বিরতির পর পিএসজির তরুণ তুর্কি ডেজিরে দুয়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে।

ইনজুরি টাইমে কেনের দারুণ এক গোল গ্যালারিতে সামান্য আশা জাগালেও পিএসজির রক্ষণের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না।

অপ্রতিরোধ্য লুইস এনরিকের পিএসজি

ম্যানেজার লুইস এনরিকে পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে গেলেন। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও আর্সেনালকে হারিয়ে এবং ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছিল পিএসজি। এবারও তারা সেই একই দাপট ধরে রেখেছে।

এনরিকে এমন এক দল গঠন করেছেন যেখানে কাভারাস্কেইয়া ও দেম্বেলের মতো আক্রমণভাগের পাশাপাশি মার্কিনহোসের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা রক্ষণ সামলাচ্ছেন নিখুঁতভাবে।

বায়ার্নের আক্ষেপ: কেনের দুর্ভাগ্য

বায়ার্ন সমর্থকদের জন্য রাতটি ছিল প্রচণ্ড হতাশার। বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতলেও কেন এবং কোম্পানির লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। হ্যারি কেন পুরো ম্যাচে পিএসজির রক্ষণের কারণে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। শেষ গোলটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাল্লাই ভারী করেছে, দলকে বুদাপেস্টের টিকিট এনে দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
চ্যাম্পিয়নস লিগের নেশায় টেনিসের ‘নিষিদ্ধ’ প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে পিএসজি!