ভ্যালদেবেবাসে সতীর্থদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনায় ক্লাবের ভাবমূর্তি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে ক্লাবটি। ইতোমধ্যে দুই খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ মেয়াদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
জরুরি সভায় ‘সর্বোচ্চ’ শাস্তির সিদ্ধান্ত
ড্রেসিংরুমে সংঘর্ষের পর ভালভার্দে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরপরই রিয়াল মাদ্রিদ বোর্ড জরুরি সভায় বসে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘কাদেনা সার’ জানিয়েছে, ক্লাবের শৃঙ্খলা কমিটি দুই খেলোয়াড়কেই বড় অংকের জরিমানা এবং দীর্ঘ মেয়াদী নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি হবে “ম্যাক্সিমাম পসিবল পেনাল্টি” বা নিয়মের মধ্যে থাকা সর্বোচ্চ শাস্তি।
ক্লাবের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, “মাঠে এবং মাঠের বাইরে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের যে আচরণ হওয়া উচিত, তা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
আরও পড়ুন:
এমবাপ্পেকে নিয়ে ক্ষুব্ধ রিয়াল মাদ্রিদ, একা হয়ে পড়ছেন ফরাসি তারকা
অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ
ইতোমধ্যে দুই মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক ডিসিপ্লিনারি অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কার প্ররোচনায় পরিস্থিতি মারামারি পর্যন্ত গড়াল, তা জানতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়াও এই তদন্তের আওতাভুক্ত হতে পারেন, কারণ স্কোয়াডের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খোদ বোর্ডই এখন প্রশ্ন তুলছে।
ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনার শুরু গত বুধবার। অনুশীলনের সময় কোনো এক বিষয়ে তর্কে জড়ান ভালভার্দে ও চুয়ামেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে তারা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে কোচ আলভারো আরবেলোয়া দুই খেলোয়াড়কে পরের দিন একই দলে রেখে অনুশীলন করানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। বৃহস্পতিবার অনুশীলনের শুরুতেই চুয়ামেনির সাথে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন ভালভার্দে এবং পরে ফরাসি মিডফিল্ডারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ল্যাং মেরে ফেলে দেন।
ড্রেসিংরুমে রক্তপাত ও অজ্ঞান ভালভার্দে
আসল নাটক শুরু হয় অনুশীলনের পর ড্রেসিংরুমে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভালভার্দে অভিযোগ করেন যে চুয়ামেনি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছেন। চুয়ামেনি তা অস্বীকার করলেও ভালভার্দে থামেননি।
এক পর্যায়ে চুয়ামেনি মেজাজ হারিয়ে ভালভার্দেকে লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি মারেন। আকস্মিক এই আঘাতে ভালভার্দে মাটিতে পড়ে যান এবং তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পড়ে যাওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত হুইলচেয়ারে করে তাঁকে মাঠ থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কোচ আরবেলোয়া নিজেও তাঁর সাথে হাসপাতালে যান।
সংকটে দলের একতা
শিরোপাহীন মৌসুমের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুম এখন স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত। খবর পাওয়া গেছে, দলের অন্তত ৬ জন সিনিয়র খেলোয়াড় কোচের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।
এমন উত্তাল সময়ে ভালভার্দে-চুয়ামেনির সংঘর্ষ এবং ক্লাবের এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দলের ভেতরকার অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
রিয়াল মাদ্রিদে চুয়ামেনির দুঃসহ স্মৃতি, পাশে দাঁড়ালেন ভিনিসিয়ুসের
বার্সেলোনা ম্যাচের আগে বিধ্বস্ত মাদ্রিদ
আগামীকালই ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল। সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ এল ক্লাসিকোর আগে দুই মূল মিডফিল্ডারকে শাস্তির মুখে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা মাদ্রিদ শিবিরের মানসিক অবস্থাকে একেবারে ধসিয়ে দিয়েছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ শাস্তির বিষয়ে অনড় থাকলেও, মাঠের ফুটবলে এর প্রভাব কতটুকু পড়বে—সেটাই এখন বড় উদ্বেগের কারণ।

