মিরপুরের আকাশে যখন বিজয়ের আবির উড়ছে, সংবাদ সম্মেলনে তখন শান্ত সমাহিত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট জয়, অথচ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে আত্মতৃপ্তির চেয়েও বেশি ফুটে উঠল ভবিষ্যতের দায়বদ্ধতা। ১০৪ রানের এই জয় কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন এক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশও বটে।
নিজের প্রতি কঠোর অধিনায়ক
প্রথম ইনিংসে ১০১ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭—এক ম্যাচে ১৮৮ রান করেও যেন নিজের ওপর তুষ্ট নন শান্ত।
আধুনিক ক্রিকেটের বড় তারকাদের উদাহরণ টেনে তিনি এক রূঢ় সত্য তুলে ধরলেন। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার জায়গায় অন্য কোন বড় ব্যাটসম্যান থাকলে ১০১টা হয়ত ২০০ হতো। এটা খুবই সত্য কথা। আপনি বিশ্ব ক্রিকেট দেখে থাকলে বুঝবেন যে, সেরা ব্যাটাররা এমনই করে।’
নিজের ব্যাটিং ছন্দ নিয়ে তাঁর সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি, ‘তাই আমার মনে হয় আমি আমার সেরা ছন্দে নেই। প্রথম ইনিংসে আমার আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল।’
আরও পড়ুন:
১৭ টেস্টে ৭: মুশফিককে ছাড়িয়ে অধিনায়ক শান্তর রেকর্ড
সাহসী সিদ্ধান্তের সেই সকাল
পঞ্চম দিন সকালে দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার যে ঝুঁকি শান্ত নিয়েছিলেন, তা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল।
এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা সকাল থেকেই পরিষ্কার ছিলাম যে আমরা কী করতে চাই। সত্যি বলতে আমাদের ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০টি রান করার। তবে মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যে এইরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রথমত আমরা এখনো অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দল হইনি। তবে আমার মনে হয় আমাদের এখন পাঁচজন ভালো বোলার আছে বলেই এই সাহসগুলো নিতে পারছি।’
শাহীন আফ্রিদিকে নাহিদ রানার ‘জবাব’
ম্যাচের অন্যতম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ছিল নাহিদ রানা বনাম শাহীন শাহ আফ্রিদির লড়াই। ম্যাচের আগে শাহীন মন্তব্য করেছিলেন, নাহিদ এবার সুবিধা করতে পারবেন না। ব্যাটিংয়ের সময় নাহিদকে বাউন্সারে জর্জরিত করেছিলেন শাহীন, এমনকি একটি বল হেলমেটেও লেগেছিল।
কিন্তু বল হাতে নাহিদ যখন শাহীনকে গতিময় বাউন্সারে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন, তখনই সম্পন্ন হলো মধুর প্রতিশোধ।
এই লড়াই নিয়ে মুচকি হেসে শান্ত বলেন, ‘ওরাও জানে যে আসলে রানাকে বাউন্সার মারলে, আবার বাউন্সার খেতে হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না। কারণ আমার শখ নেই অত জোরে বাউন্সার খেলার। বাংলা ভাষায় যদি বলি যে জবাবটা দিতে পারাটা একটা ভালো দিক।’
বোলিং ইউনিটের সম্মিলিত শক্তি
নাহিদ রানা একাই ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্পটলাইট কেড়ে নিলেও শান্ত ভোলেননি অন্যদের অবদান। মিরাজের শুরু, তাসকিনের ব্রেক-থ্রু আর তাইজুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। অধিনায়ক বলেন, ‘এখন আমরাও বোলিংয়ে পাল্টা জবাব দিতে পারি। এটা একটা ভালো দিক যে, আমাদের ওরকম বোলিং স্ট্রেংথ এখন আছে। এই জিনিসগুলো ভালো, টিম গ্রো করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে শান্তর বার্তা স্পষ্ট—বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে ধীরে ধীরে উপরের দিকে চড়া। গতবার সাত নম্বরে শেষ করলেও এবার লক্ষ্য সেরা চার-পাঁচে থাকা। মিরপুরের এই জয় সেই পথেই এক বড় পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে তছনছ করে দিলেন নাহিদ রানা, বাংলাদেশের ‘হ্যাটট্রিক’ জয়

