সিলেট টেস্ট শুরু হওয়ার আগে অনুশীলনে মুশফিক ও শান্ত।মুশফিক ও শান্তর এই আনন্দময়ী মুহুর্তই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ দল কতোটা নির্ভার।

সিলেটের আকাশ যখন মেঘে ঢাকা, টাইগারদের ড্রেসিংরুমে তখন রোদঝলমলে আত্মবিশ্বাস। মিরপুরে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ের পর এবার চায়ের নগরী সিলেটে পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার ‘বাংলাওয়াশ’ করার সুবর্ণ সুযোগ নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই টেস্টে পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং লড়াকু মানসিকতা—সবই কথা বলছে টাইগারদের পক্ষে। তবে লড়াইটা কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষেই নয়, লড়তে হতে পারে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সঙ্গেও।

বৃষ্টির বনাম বিশ্বমানের ড্রেনেজ

টেস্ট শুরুর ঠিক আগের দিন সিলেটে যেন হয়ে গেল বৃষ্টির মহড়া। সকাল থেকেই থেমে থেমে আসা বৃষ্টিতে বিঘ্নিত হয়েছে দুই দলের অনুশীলন। ড্রেসিংরুম আর ইনডোরেই কাটছে ক্রিকেটারদের সময়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, আগামী পাঁচ দিনই সিলেটের আকাশে বৃষ্টির বাগড়া থাকতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর হলো সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের বিশ্বমানের ড্রেনেজ সিস্টেম। সংবাদ সম্মেলনে আসা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম শোনালেন আশার বাণী, “সম্প্রতি এখানে বিসিএলের ম্যাচে দেখেছি রাতে প্রচুর বৃষ্টি হলেও সকাল সাড়ে ৯টায় খেলা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ড্রেনেজ সিস্টেম দারুণ হওয়ায় আমরা প্রকৃতির উপহার নয়, বরং খেলেই ফলাফল বের করতে চাই।”

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে তছনছ করে দিলেন নাহিদ রানা, বাংলাদেশের ‘হ্যাটট্রিক’ জয়

বাবর ফিরলেও ‘নির্ভার’ বাংলাদেশ

পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির খবর হলো দলে ফিরছেন তাদের মহাতারকা বাবর আজম। পিএসএলের দারুণ ফর্ম নিয়ে আসা বাবরকে নিয়ে পাকিস্তান কোচ সারফারাজ আহমেদ আশাবাদী হলেও বাংলাদেশ শিবিরে কোনো বাড়তি উত্তেজনা নেই। মুশফিকের সোজাসাপ্টা উত্তর, “পাকিস্তানে যখন ওদের হারিয়েছি, বাবর তো দুই টেস্টেই খেলেছিল। সে থাকুক আর না থাকুক, আমরা জানি কোথায় আঘাত করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাবর বা পাকিস্তান দল কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

উল্লেখ্য, টেস্টে বাবর আজমের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা সুখকর নয়; শেষ আট ইনিংসে তাঁর ফিফটি মাত্র একটি। ফলে বাবর-জুজু এখন আর বাংলাদেশকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট নয়।

সবুজ ঘাসে পেস বিপ্লবের হাতছানি

সিলেটের উইকেটের বর্তমান চেহারা দেখে ধন্দে পড়ে যাওয়ার অবকাশ আছে—এটি উইকেট নাকি আউটফিল্ডের অংশ! সবুজের গালিচায় ঢাকা এই উইকেটে মিরপুরের চেয়ে বাউন্স এবং গতি বেশি থাকবে। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাদের জন্য এটি এক আদর্শ মঞ্চ। যদিও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে তারা আজ বোলিং করেননি, তবে নেটে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে বোলিং কোচ শন টেইটের নিবিড় কাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইবাদত হোসেনের জায়গায় শরিফুলের ফেরা প্রায় নিশ্চিত।

ব্যাটিংয়েও আসছে পরিবর্তন। চোটাক্রান্ত সাদমান ইসলামের জায়গায় অভিষেক হতে যাচ্ছে মারকুটে ওপেনার তানজিদ হাসানের। আঙুলের চোটে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে দেখা যেতে পারে জাকির হাসানকে।

চাপে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, লক্ষ্য স্থির বাংলাদেশের

রাওয়ালপিন্ডির পর মিরপুর—টানা হারের বৃত্তে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনায় জর্জরিত।

সারফারাজ আহমেদ একে ‘নতুন কিছু নয়’ বলে উড়িয়ে দিলেও দলের ভেতরকার অস্থিরতা স্পষ্ট। বিশেষ করে উইকেট দেখতে পাকিস্তান দলের পুরো বহর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাতে তাদের রক্ষণাত্মক মানসিকতাই ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের লক্ষ্য অনেক বড়। শুধু এই সিরিজ জয় নয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও উঁচুতে নিতে চায় দল। মুশফিকের ভাষ্যমতে, “আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি বলেই জিতছি। পাকিস্তান ধুঁকছে এটা আমাদের জয়কে ম্লান করে না। আমাদের লক্ষ্য এখন ঘরের মাঠের পয়েন্টগুলো পকেটে পোরা।”

সিলেটের গ্যালারি এখন অপক্ষায়—বৃষ্টির লুকোচুরি ছাপিয়ে কি আরেকটি ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হবে বাংলাদেশ? উত্তরটা সময়ের হাতে, তবে শান্তর সেনাপতিরা যে ‘সুইচ অন’ মুডেই আছেন, তা নিশ্চিত।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে হারার পর আইসিসির বড় শাস্তি পেল পাকিস্তান