মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসানের জুটি বেশি দীর্ঘ হয়নি।মুমিনুল ও তানজিদের জুটির সময়।

মিরপুর টেস্টে জয় এলেও দুই ইনিংসেই ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা পুড়িয়েছিল বাংলাদেশকে। আশা ছিল চায়ের নগরী সিলেটের সবুজ উইকেটে ঘুচবে সেই আক্ষেপ। কিন্তু চেনা ভূত যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না শান্তর দলের। সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিংয়ে পরিবর্তন এলেও ভাগ্য বদলায়নি স্বাগতিকদের। পাকিস্তানের পেস আক্রমণে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়ে শুরুতে যে কাঁপন ধরেছিল, তা মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে কিছুটা সামাল দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।

শূন্য রানেই জয়ের বিদায়, তানজিদের সম্ভাবনাময় শুরু

টস হেরে আজ প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সাদমানের জায়গায় আজ আন্তর্জাতিক টেস্টে ক্যাপ মাথায় তোলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। অন্য প্রান্তে আঙুলের চোট কাটিয়ে দলে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের ওপর ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু ইনিংসের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসের করা প্রথম বলটি জয়ের প্যাডে লাগলে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন জানায় পাকিস্তান। সে যাত্রায় আম্পায়ার সাড়া না দিলেও পরের বলেই স্লিপে সালমান আলী আগার হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন জয়। দলীয় কোনো রান যোগ করার আগেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিতে মুমিনুল হককে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অভিষিক্ত তানজিদ তামিম। দারুণ কিছু শটে এই জুটি যখন জমে উঠছিল, তখনই ঘটে ছন্দপতন। আব্বাসের বলে মিড অনে তুলে মারতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়বড়ে বোলার নিজেই লুফে নেন তানজিদের ক্যাচ। ৩৪ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই তরুণ ওপেনার। এর মাধ্যমে ভাঙে ৪৪ রানের সম্ভাবনাময় জুটি।

আরও পড়ুন:
‘সুইচ অন’ মোডে বাংলাদেশ, বাবর ফিরলেও লক্ষ্য ‘বাংলাওয়াশ’

শেহজাদের তোপে মুমিনুলের বিদায় ও শান্তর ‘লাইফ’

তামিম বিদায় নিলেও উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক। কিন্তু দলীয় ৬৩ রানের মাথায় খুররম শেহজাদের এক দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি। ৩টি চারের সাহায্যে ২২ রান করে ফেরেন মুমিনুল।

উইকেটে এসেই চরম বিপদে পড়তে পারতেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। খুররম শেহজাদের একটি বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে পুরোপুরি পরাস্ত হন তিনি। বল সরাসরি আঘাত হানে তাঁর প্যাডে। পাকিস্তানের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় পাকিস্তান। তবে ভাগ্যিস বলটি অফস্টাম্পের লাইনের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল! আম্পায়ার্স কলের কল্যাণে বেঁচে যান শান্ত। নাহলে ৬৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো স্বাগতিক দল।

মধ্যাহ্নভোজে শান্ত-মুশফিকের স্বস্তি

সেই মহাবিপদ থেকে বেঁচে যাওয়ার পর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গী করে লাঞ্চের আগের সময়টা নিরাপদে পার করেছেন শান্ত। পাকিস্তান বোলারদের দারুণভাবে সামলে এই দুই থিতু ব্যাটার স্কোরবোর্ডে আরও ৩৮ রান যোগ করেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো উইকেট না হারিয়ে প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ ওভারের ঠিক পর ৩ উইকেটে ১০১ রান। অধিনায়ক শান্ত ২৬ এবং ফর্মে থাকা মুশফিক ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।

মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি মিলিয়ে ১৮৮ রান করা শান্তর ব্যাটের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পক্ষে এখন পর্যন্ত মুহাম্মদ আব্বাস ২টি এবং খুররম শেহজাদ ১টি উইকেট নিয়েছেন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে কি না, তা নির্ধারণ করবে দ্বিতীয় সেশনে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের টিকে থাকার ওপর।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে হারার পর আইসিসির বড় শাস্তি পেল পাকিস্তান