আইপিএলের চলতি আসরের প্রথমার্ধে রীতিমতো উড়ছিল পাঞ্জাব কিংস। ৭ ম্যাচ শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেও ছিল তারা। তবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ভাগে এসে যেন কোনো এক অদৃশ্য অভিশাপে পথ হারিয়েছে দলটি। ধর্মশালায় রোববার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২৩ রানে হেরে গেছে পাঞ্জাব। এটি আসরে তাদের টানা ষষ্ঠ পরাজয়।
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে এই হারের পর ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে যাওয়ার সমীকরণে পড়েছে পাঞ্জাব কিংস। ম্যাচ শেষে ডাগআউটে পাঞ্জাবের হেড কোচ রিকি পন্টিংয়ের মলিন মুখই বলে দিচ্ছিল তাদের ক্যাম্পের হতাশার চিত্র।
ভেঙ্কটেশ ও বিরাটের ব্যাটে বেঙ্গালুরুর বড় সংগ্রহ
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২২২ রানের পাহাড় গড়ে বেঙ্গালুরু। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। সাধারণত ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলা ভেঙ্কটেশ এবার টপ অর্ডারে প্রমোশন পেয়েই বাজিমাত করেন। ৪০ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৭৩ রানের অপরাজিত এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
এর আগে ওপেনিংয়ে বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাডিক্কাল দলকে দারুণ ভিত্তি এনে দেন। আসরে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেওয়ার পথে কোহলি খেলেন ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। এই ইনিংসের মাধ্যমে রেকর্ড নবমবারের মতো আইপিএলের এক আসরে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন কোহলি। পাডিক্কাল খেলেন ২৫ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। শেষদিকে টিম ডেভিডের ১২ বলে ২৮ রানের ক্যামিওতে ২০০ পার করে বেঙ্গালুরু। চলতি আসরে এ নিয়ে নবমবারের মতো কোনো দল পাঞ্জাবের বিপক্ষে দুই শর বেশি রান করল। পাঞ্জাবের পক্ষে হারপ্রীত ব্রার ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।
আরও পড়ুন:
আইপিএলে অধিনায়কত্ব হারানোর ঝুঁকিতে ৫ তারকা!
শুরুর বিপর্যয় ও শশাঙ্কের একাকী লড়াই
২২৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পাঞ্জাবের ব্যাটিং লাইনআপ। ভুবনেশ্বর কুমার ও রসিক সালামের তোপে মাত্র ১৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরান সিংয়ের পর শ্রেয়াস আইয়ারও ফেরেন মাত্র ১ রান করে।
পাওয়ারপ্লেতে ৩ উইকেটে মাত্র ৪৯ রান তুলতে পারে পাঞ্জাব। এরপর সুরিয়াংশ শেদগে ও মার্কাস স্টয়নিস কিছুটা প্রতিআক্রমণ করার চেষ্টা করলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন শশাঙ্ক সিং। তার ২৭ বলের এই ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা। তবে শশাঙ্কের এই লড়াকু ইনিংস দলের হার এড়ানোর জন্য বেশ দেরিতে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৯৯ রানে থামে পাঞ্জাবের ইনিংস। বেঙ্গালুরুর পক্ষে রসিক সালাম ৩৬ রানে ৩টি এবং ভুবনেশ্বর কুমার ৩৮ রানে ২টি উইকেট নেন।
বোলারদের ব্যর্থতা ও পাঞ্জাব শিবিরের অস্বস্তি
টানা ষষ্ঠ হারের পর পাঞ্জাবের পেস বোলিং কোচ জেমস হোপস বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানান, পাওয়ারপ্লে নিয়ন্ত্রণ করলেও মাঝের ওভারগুলোতে বোলাররা খেই হারিয়ে বড় ওভার উপহার দিয়েছেন। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক দলের খেলায় প্রভাব ফেলেছে কি না—এমন প্রশ্নে হোপস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকায় তিনি এসব জানেন না। তবে বোলারদের সঠিক সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারাই দলকে ডুবিয়েছে।
দলের তারকা পেসার অর্শদীপ সিংয়ের চোটের গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোপস বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে অর্শদীপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “অর্শদীপ একজন যোদ্ধা। তার বলে অন্তত ৪টি ক্যাচ মিস না হলে আজ তার নামের পাশে ১৭-১৮টি উইকেট থাকত।”
আরও পড়ুন:
অভূতপূর্ব রেকর্ডে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেল আইপিএল ২০২৬!

