আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাবর আজম, উইকেট পেয়ে উল্লসিত নাহিদ রানা।পাকিস্তানি তারকা বাবর আজমকে আউট করেছেন নাহিদ রানা।

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে উঠেছিলেন বাবর আজম। ফিফটি পেরিয়ে দারুণ গতিতে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। স্বাগতিক বোলারদের সামনে অন্য ব্যাটাররা খাবি খেলেও বাবর ছিলেন বেশ সাবলীল। তবে তাকে থামাতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বোলিং পরিবর্তনের চালটি আবারও সফল হয়। নতুন স্পেলে বল হাতে এসেই প্রথম ওভারে বাবরকে সাজঘরে ফেরান নাহিদ রানা।

ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হলেও নাহিদ রানার জন্য বিষয়টি যেন এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বজুড়ে সুনামের সঙ্গে খেলে যাওয়া বাবর আজমকে এখন পর্যন্ত লাল বলের ক্রিকেটে তিনবার মোকাবিলা করে তিনবারই আউট করার অনন্য কীর্তি গড়লেন এই তরুণ পেসার।

নাহিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাবর

সিলেটে ৬৮ রানের ইনিংস খেলার পথে বাবর দারুণ কয়েকটি শট খেললেও নাহিদের সামনে তার ব্যাট শেষ পর্যন্ত মিইয়ে যায়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ২৩ বছর বয়সী এই টাইগার পেসারকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন বাবর আজম।

পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার বলেন, “বর্তমানে লাল বলের ক্রিকেটে নাহিদ রানা দ্রুততম বোলারদের মধ্যে একজন। সে খুব ভালো করছে। নাহিদ খুব মেধাবী ক্রিকেটার। তার গতি আছে। সে উন্নতি করছে, সামনে আরও ভালো করবে।” উইকেট নিয়ে বাবর আরও যোগ করেন, “সত্যি বলতে পিচ ভালো ছিল। বোলাররাও ভালো করেছে। তবে আমরা আরও দায়িত্ব নিতে পারতাম।”

আরও পড়ুন:
নাহিদ রানার মায়াজাল: বাবর আজমের নতুন দুঃস্বপ্ন!

বাবরকে আউটের পরিসংখ্যান

২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট থেকে বাবরকে আউট করার এই সিলসিলা শুরু করেন নাহিদ। পাকিস্তানের মাটিতে দুই টেস্টে দুবার বাবরকে ফিরিয়েছিলেন তিনি। চোটের কারণে চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর খেলতে না পারায় সেবার যেন রক্ষা পেয়েছিলেন! তবে সিলেটে মাঠে নেমেই আবারও নাহিদের শিকার হলেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন মাত্র ২২। তিনবার আউট হওয়ায় নাহিদের সামনে বাবরের ব্যাটিং গড় এখন মাত্র ৭.৩৩।

টেস্টে বাবরকে সবচেয়ে বেশি ৭ বার আউট করেছেন অস্ট্রেলিয়ার জশ হেইজেলউড। এছাড়া প্রাবাথ জায়াসুরিয়া ৬ বার, ন্যাথান লায়ন ৫ বার এবং কাগিসো রাবাদা ও কেশাভ মহারাজ ৪ বার করে আউট করেছেন। তবে যেভাবে নাহিদ রানা ছুটছেন, তাতে এই তালিকায় ওপরের দিকে উঠতে তার বেশি সময় লাগার কথা নয়।

নাহিদের ‘মজা’

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারকে বারবার আউট করা নিয়ে অবশ্য বেশ নির্লিপ্ত দেখাল নাহিদকে।

নাহিদ রানা বলেন, “আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটি উইকেটই আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে বলে বলে আউট করতে পারবেন না যে, এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম… কখনও বলে বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধু আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে কীভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দলকে সহায়তা করা যায়।”

পরিকল্পিত সেই ডেলিভারি

বাবরকে আউট করা ডেলিভারিটি নিয়ে বাড়তি রোমাঞ্চ না থাকলেও এটি নাহিদকে বেশ তৃপ্তি দিয়েছে। আউট করার আগের ডেলিভারিটির গতি ছিল ১৪৯ কিলোমিটার। তবে উইকেট নেওয়া বলটিতে গতি কমিয়ে ১৩৯ কিলোমিটার করেন নাহিদ। গতির এই তারতম্যে ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিড অনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন বাবর আজম।

পরিকল্পনা করেই এই উইকেটটি আদায় করেছেন জানিয়ে নাহিদ রানা বলেন, “কোয়ালিটি ব্যাটসম্যানকে কোয়ালিটি বোলিং করতে হয়… কিংবা যে কোনো ব্যাটসম্যানকে বোলিং করেন, আপনার পেসে কিংবা স্কিলে ভিন্ন কিছু একটু এলে ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়ে। আমি শুধু চেষ্টা করছি, কাজে লেগে গেছে।”

আরও পড়ুন:
নাহিদ রানা: গতির রুদ্রমূর্তিতে রচিত এক মহাকাব্য