মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকলে লিটন দাসের শৈল্পিক ব্যাটিংকে অনেকেই ট্রল করে ‘মোনালিসা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে সেই সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ম্যাচের দুই ইনিংসেই খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার পাশাপাশি উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির এক দারুণ রোমাঞ্চ তৈরি করেছিলেন তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, পেসার হাসান আলীর ফাঁদে পা দিয়ে ৬৯ রানে থামতে হয় তাকে। তবে শতভাগ সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই ক্রিকেটার।
দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ১১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল স্বাগতিকরা, তখন ক্রিজে এসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১২৩ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি গড়েন লিটন। প্রতিটি শটেই ছিল আত্মবিশ্বাস আর মেধার ছাপ।
শেষপর্যন্ত ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাড়নাতেই মূলত বাউন্ডারির কাছে ধরা পড়েন তিনি।
উইকেটকিপারদের তালিকায় একক আধিপত্য
টেস্ট ক্রিকেটে শতভাগ জোড়া সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁতে না পারলেও দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লিটন একাই রাজত্ব করছেন একটি বিশেষ জায়গায়।
বাংলাদেশের কোনো উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির নজির আর কারও নেই। লিটন এই কাজটি করে দেখালেন ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো। এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন তিনি।
মুশফিকুর রহিমের একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও এক টেস্টে এমন জোড়া কীর্তি নেই।
আরও পড়ুন:
লিটন দাস: পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘ক্রাইসিসম্যান’!
অতীতের হারের বৃত্ত ভাঙার হাতছানি
পরিসংখ্যানের পাতায় লিটনের এই ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে একটি অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয় জড়িয়ে আছে। এর আগের দুই টেস্টে যখনই লিটন একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেয়েছেন, বাংলাদেশ সেই ম্যাচগুলোতে যথাক্রমে ৮ ও ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছিল।
তবে চায়ের দেশ সিলেটের সবুজ পিচে এবার চিত্রনাট্য একদম ভিন্ন। বাবর আজমদের ওপর চড়াও হয়ে দ্বিতীয় সেশনের খেলা চলাকালীনই ৩শ রানের বেশি লিড নিজেদের পকেটে পুরেছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপকে হতাশ করে স্বাগতিকরা এখন পরিষ্কারভাবে জয়ের সুবাস পাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
নিজেকে বাংলাদেশের ‘সর্বকালের সেরা ক্যাপ্টেন’ বললেন লিটন দাস

