অভিমানে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই ছেড়ে দেওয়াটা তার জন্য নিশ্চয়ই সহজ কিছু ছিল না। কারণ, তিনি সবসময়ই টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিবেদনের কথা বলে গেছেন।
তবে ছেড়ে দেওয়া সেই দায়িত্ব ফের নিজের কাঁধেই নিতে হচ্ছে শান্তকে। বিসিবির চেষ্টায় তার অভিমান ভেঙেছে। তিনিই বহাল থাকছেন টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে।
মধ্যখানে কয়েক মাসের বিরতি শেষে ফের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে যাত্রাপথে উচ্ছ্বসিত নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্ব চালিয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত এবং আমার নেতৃত্বে ভরসা ও আস্থা রাখার জন্য বোর্ডের প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ। টেস্ট ক্রিকেটে দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
শান্ত যোগ করেন, ‘এত প্রতিভা ও সম্ভাবনা আছে যে দলের, সেই দলকে নেতৃত্ব দিতে পারা সত্যিকারের আনন্দের এবং আমি বিশ্বাস করি, রোমাঞ্চকর ও ইতিবাচক একটি মৌসুম আমাদের অপেক্ষায়। এই মাসের আয়ারল্যান্ড সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা, যেটি দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হচ্ছে।’
গেল জুনে শ্রীলঙ্কা সফরের প্রাক্কালে শান্তকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বিসিবি। মেহেদি হাসান মিরাজ হন অধিনায়ক। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাননি শান্ত। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সফরের দুটি টেস্ট শেষ হতেই জানিয়ে দেন, তিনি টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্বে থাকবেন না।
এরপর কয়েক মাসের বিরতি। বাংলাদেশের কোনো টেস্ট ম্যাচ এই সময়ে ছিল না। এই মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আছে দুটি টেস্ট ম্যাচ। ফলে অধিনায়ক বেছে নেওয়ার দিকে নজর ছিল বিসিবির।
ভেতরের সূত্র মতে, শান্তকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে নানা প্রচেষ্টা চালানো হয়, তার অভিমান ভাঙাতে চলে তৎপরতা। শেষমেশ রাজি হন তিনি। এরই সুবাদে শুক্রবার বোর্ড জানায় যে শান্তই থাকছেন টেস্ট অধিনায়ক।
শান্তকেই কেন নেতৃত্বে রেখে দেওয়া হলো? এর উত্তর মেলে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মন্তব্যে। যিনি বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি এই ব্যাটসম্যানের নিবেদন ও গভীর বোধের কারণেই তাকে অধিনায়কত্ব দেওয়া।
শান্ত মূলত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে শুরু করেন। গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিন সংস্করণেই নিয়মিত অধিনায়ক হন তিনি। কিন্তু তার ওপর আস্থা রাখতে পারেনি বিসিবি। প্রথমে তাকে টি-টোয়েন্টি থেকে সরানো হয়। এরপর গেল জুনে ওয়ানডের দায়িত্বও হারান তিনি।
চলতি মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। প্রথমটি সিলেটে, পরেরটি ঢাকায়।
তবে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যস্ততা আছে আগামী বছর। মার্চ-এপ্রিলে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ, জুলাই-অগাস্টে জিম্বাবুয়ে সফর, আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফর, অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর ১০ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

