বিগ ব্যাশের দলগুলোর তারকারা।বিগ ব্যাশ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নতুন পরিকল্পনা। ছবি: বিগ ব্যাশ

অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লীগ (বিবিএল) এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নয়, বরং অনুষ্ঠিত হতে পারে ভারতের চেন্নাইয়ের বিখ্যাত এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) এই সম্ভাব্য ভেন্যুর পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এবং তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ)। সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে চেন্নাই সুপার কিংসের এই বিখ্যাত হোম ভেন্যুতে বসবে বিগ ব্যাশের আসর।

চেন্নাইয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দল

বিগ ব্যাশের এই ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চেন্নাই সফর করেছে।

সোমবার আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচটি স্টেডিয়ামে বসে দেখেন তারা। মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের উপস্থিতি ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সাথেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। তবে ম্যাচটি চূড়ান্ত করার আগে এখনো দুই দেশের সরকারি উচ্চপর্যায়ে কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিগ ব্যাশে বড় পরিবর্তন: বিক্রি হচ্ছে ৩ ক্লাব, আইপিএল মালিকদের নজর

ভৌগোলিক দূরত্ব ও আবহাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ

বিগ ব্যাশের মতো একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের (৭ সপ্তাহ) টুর্নামেন্টকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে চেন্নাইয়ের কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই; মেলবোর্ন থেকে দিল্লি কিংবা সিডনি থেকে ব্যাঙ্গালোর হয়ে আসতে সময় লাগে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা। ওয়ান-স্টপ ফ্লাইটে সময় লাগে প্রায় ১৩ ঘণ্টা।

ফলে ক্রিকেটারদের ভ্রমণক্লান্তি কাটাতে এবং ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে পরবর্তী ম্যাচের আগে রিকভারির জন্য সময় সূচিতে বড় প্রভাব পড়বে।

এর বাইরে সবচেয়ে বড় শঙ্কা হলো আবহাওয়া। ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে সাধারণত ভেজা মৌসুম চলায় প্রবল বন্যা ও বৃষ্টির ঝুঁকি থাকে, যা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটিকে ভেস্তে দিতে পারে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ও বেসরকারিকরণের সমীকরণ

ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজারকে ধরতে সিএ-র এই উদ্যোগে মেলবোর্ন স্টার্স, মেলবোর্ন রেনিগেডস ও সিডনি থান্ডারের মতো দলগুলো চেন্নাইয়ে খেলতে বেশ আগ্রহী।

তবে কোনো একটি দলকে এই ম্যাচের জন্য ‘হোম টিম’ হতে হবে, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারা মাত্র ৪টি হোম ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। এটি ক্লাবগুলোর টিকিট ও মেম্বারশিপ রাজস্বে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মেলবোর্ন রেনিগেডস মার্ভেল স্টেডিয়ামের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ায় ইতিমধ্যেই জিলংয়ের জিএমএইচবিএ স্টেডিয়াম, এমসিজি কিংবা জংশন ওভালের মতো বিকল্প ভেন্যুর কথা ভাবছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশের ফ্র্যাঞ্চাইজি বেসরকারিকরণের যে বিতর্ক চলছে, তার মাঝেই এই চেন্নাইয়ের ম্যাচের আলোচনা গতি পেয়েছে

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যেখানে তিনটি ক্লাবকে বেসরকারিকরণের বাজারে যাচাই করতে চাইছে, সেখানে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ডের মতো বড় রাজ্যগুলো বিদেশী মালিকানা ছাড়াই বর্তমান কাঠামোর মধ্যে রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প মডেলের পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন সিডনি থান্ডারের হয়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এবার বিবিএলে খেলার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে হাঁটুর চোটের কারণে ছিটকে যান।

আরও পড়ুন:
বিগ ব্যাশে রিশাদ: আক্ষেপ থাকলেও রেকর্ডে উজ্জ্বল নাম