New head coach Thomas Dooley speaking at the BSPA Sports Award stage.বিএসপিএ’র অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি।

সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার পর কয়েক ঘণ্টার বিশ্রাম। অবশেষে বিকেলে জমকালো এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের নিজের আগমনী বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিলেন থমাস ডুলি। লাল-সবুজের ডাগআউট সামলানোর দায়িত্ব পাওয়া এই নতুন গুরুকে গতকাল ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে কোনো ফুটবল কোচের এমন ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় পরিচিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

মঞ্চে দাঁড়িয়েই ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া এই সাবেক অধিনায়ক বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তাঁর আকাশছোঁয়া অথচ বাস্তবসম্মত স্বপ্নের কথা শোনান। জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের নতুন এই গুরুর প্রধান লক্ষ্য হলো ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে টেনে তোলা। তবে বর্তমানে ১৮০-এর আশপাশে ঘুরপাক খাওয়া এই অবস্থান থেকে রাতারাতি অলৌকিক কিছু করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ডুলির পরিকল্পনা হলো আগামী এক বছরের মধ্যে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের ফুটবলকে র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৫০ বা ১৬০-এর ভেতরে নিয়ে আসা।

তিনি বলেন, “১৬০-এর মধ্যে আসা বাস্তবসম্মত। তবে তা আগামীকালই সম্ভব নয়, হয়তো এক বছরের মধ্যে সম্ভব।”

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের নতুন কোচ কে এই থমাস ডুলি?

মানসিকতা বদল ও ত্যাগের মহামন্ত্র

সফলতার জন্য ফুটবলারদের ইতিবাচক মানসিকতা ও ত্যাগের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী এই জার্মান-আমেরিকান মাস্টারমাইন্ড।

তিনি নিজেই একটি বই লিখেছেন, যার নাম—’দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস’ (ফুটবলে সাফল্যের সেই সত্য যা কেউ শেখায় না)। সেই বইয়ের মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হলো খেলোয়াড়দের চিন্তা করার ধরন বা মানসিকতা। পুরস্কার পাওয়ার আগে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যারা ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছে, তাদের নিয়েই আমরা সফল হব।”

২০০৩ সালের সাফের পর বড় কোনো ট্রফি না পাওয়া বাংলাদেশের সমর্থকদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশার চাপকে তিনি একদমই ভয় পাচ্ছেন না।

ডুলির ফুটবল দর্শনে থাকবে কৌশলী পরিবর্তন; বলের পেছনে স্রেফ দৌড়াদৌড়ি না করে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সুন্দর ফুটবল খেলার তাগিদ তৈরি করতে চান তিনি। এশিয়ান ফুটবলে ফিলিপাইনকে সাফল্যের চূড়ায় তোলা এই কোচ বাংলাদেশ ফুটবলের ২৩ বছরের খরা কাটাতে সম্পূর্ণ তৈরি হয়েই এসেছেন।

দীর্ঘমেয়াদী এই প্রক্রিয়ায় ফুটবলাররা নিজেদের মানসিকতা কতটা দ্রুত বদলাতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ডুলির এই মিশনের ভবিষ্যৎ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের ফুটবলে অদ্ভুত কাণ্ড: হলুদ থেকে লাল, লাল থেকে হলুদ!