Cameron Green batting for Australia in an ODI match against South Africa.দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গ্রিন। ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবসরের পর বড় এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলে। ২০২৭ সালে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে বসতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই সেই ‘ম্যাক্সওয়েল-শূন্যতা’ পূরণের খোঁজে নেমেছেন অজি নির্বাচকেরা। আর এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে পড়তে যাচ্ছে তরুণ অলরাউন্ডার ক্যামরন গ্রিনের ওপর। আগামী ৩০ মে থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ব্যাক-টু-ব্যাক ওয়ানডে সফর শুরু করছে অস্ট্রেলিয়া। এই দুই সফর দিয়েই গ্রিনকে ওয়ানডে মিডল-অর্ডারে একদম নতুন এক ফিনিশারের ভূমিকায় ট্রায়াল করতে যাচ্ছে অজি টিম ম্যানেজমেন্ট।

ক্যামরন গ্রিনের ওয়ানডে দলে পজিশন নিয়ে অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট মহলে তুমুল বিতর্ক চলছে।

যদিও গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর খেলা ৪৭ বলের সেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি সবার মনে আছে। তবে সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর অফ-ফর্ম তাঁকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হলেও সেবার মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

এমনকি ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও পিঠের চোটের কারণে স্কোয়াডেই ছিলেন না গ্রিন।

ফিনিশার হিসেবে গ্রিনকে পরখ করার মিশন

গ্রিন সাধারণত তাঁর শেষ ৭ ওয়ানডে ইনিংসে ৩ ও ৪ নম্বর পজিশনেই ব্যাটিং করেছেন। তবে কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাক্সওয়েল না থাকায় এবার গ্রিনকে লোয়ার-অর্ডারে একজন বিধ্বংসী অলরাউন্ড ফিনিশার হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা।

পাকিস্তান সফরে উড়াল দেওয়ার আগে সংবাদিকদের কোচ বলেন, ‘গ্রিনের ওপর ও নিচে—দুই পজিশনেই খেলার দুর্দান্ত ক্ষমতা আছে। ওর যে পাওয়ার-হিটিং স্কিল আছে, তা আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই দেখেছি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অনুপস্থিতিতে ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমরা ভিন্ন কিছু ভাবছি। গ্রিনের অলরাউন্ড স্কিল আমাদের অনেক অপশন দিচ্ছে। বিশেষ করে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর আইপিএলে ওর বোলিংয়ের যে উন্নতি হয়েছে, সেটা সাদা বলের ক্রিকেটে আমাদের বড় শক্তি দেবে।’

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে অস্থিরতা: ৫ সিনিয়র তারকা নাখোশ

কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) হয়ে এবার আইপিএলে মিশ্র এক মৌসুম কাটিয়েছেন গ্রিন। ১৪ ম্যাচে ১৪৫.৭০ স্ট্রাইক রেটে ৩২২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৭টি উইকেট।

শুরুর দিকে কেকেআরের প্রথম ৫টি হারে চরম ট্রোলের শিকার হলেও, শেষ দিকে দারুণ অবদান রাখেন তিনি।

আইপিএলের ধকল সামলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সবকটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গ্রিনকে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

টিম ডেভিডের ওয়ানডে অনাগ্রহ ও ব্যাটিং বিপর্যয়

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ব্যাটিং লাইনআপ বর্তমানে এক বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ম্যাক্সওয়েল ও স্টিভ স্মিথের অবসরের পর মিডল-অর্ডারে বড় খামতি তৈরি হয়েছে। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের ওপেনিং জুটি নিশ্চিত থাকলেও, মার্নাস লাবুশেন, জশ ইংলিশ, অ্যালেক্স ক্যারি ও ম্যাট রেনশর মতো ব্যাটারদের নিয়ে গড়া মিডল-অর্ডারে মারকুটে ফিনিশারের অভাব স্পষ্ট।

এমন পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট টিম ডেভিডকে ওয়ানডে দলে ভেড়াতে মরিয়া ছিলেন নির্বাচকেরা। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগেও তাঁকে ৪টি ওয়ানডেতে পরখ করা হয়েছিল। কিন্তু কোচ ম্যাকডোনাল্ড হতাশার সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন যে, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততার কারণে ডেভিড আপাতত ওয়ানডে ক্রিকেট খেলার জন্য নিজেকে অ্যাভেইলেবল বা উপলব্ধ রাখেননি।

কোচ জানান, ‘ডেভিড যদি নিজে থেকে ওয়ানডে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ না করে, তবে জোর করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে আমরা তাঁর সাথে আবার কথা বলব।’

আগামী ১৮ মাসে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালসহ মোট ২০টি টেস্টের ব্যস্ত সূচি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এই কঠিন পথযাত্রায় ক্যামরন গ্রিন নিজেকে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারেন এবং ম্যাক্সওয়েলের জুতোয় পা গলাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ভারতের চেন্নাইয়ে!