Jofra Archer celebrating after taking a crucial wicket against Mumbai Indians at Wankhede Stadium.জোফরা আর্চারের ব্যাটে-বলে প্লেঅফে রাজস্থান। ছবি: এপি

ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার, যেখানে হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। এমন সমীকরণের ম্যাচে শুরুতে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল রাজস্থান রয়্যালস (আরআর)। তবে ঠিক সময়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন জোফরা আর্চার। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৩০ রানে হারিয়ে দিল রাজস্থান। আর এই রাজকীয় জয়ে চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে আইপিএল ২০২৬-এর প্লেঅফের টিকিট নিশ্চিত করল রিয়ান পরাগের দল।

রাজস্থানের এই দাপুটে জয়ে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কপাল পুড়ল পাঞ্জাব কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর)। আজ রাজস্থান হেরে গেলেই কেবল এই দুই দলের সামনে সুযোগ থাকত শেষ চারে ওঠার। রাজস্থান জিতে যাওয়ায় কলকাতা ও দিল্লি ক্যাপিটালসের মধ্যকার লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটি এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে।

আগামী ২৭ মে নিউ চণ্ডীগড়ে এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (এসআরএইচ) মুখোমুখি হবে রাজস্থান।

আর্চারের ব্যাটে রাজস্থানের ক্যামব্যাক

দুপুরের ম্যাচে ওয়াংখেড়ের কিছুটা মন্থর উইকেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে রাজস্থান। মুম্বাইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই দুই বিধ্বংসী ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল (২৭) ও বৈভব সূর্যবংশীকে হারায় তারা। পাওয়ার প্লের শেষ বলে রিয়ান পরাগও সাজঘরে ফিরলে ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে রাজস্থান।

ধ্রুব জুরেলের ৩৮ ও দাসুন শানাকার ২৯ রানের পরও রান তোলার গতি সচল রাখতে পারছিল না দল।

এমন সময়ে রবীন্দ্র জাদেজা ও শুভম দুবের মতো ব্যাটাররা প্যাড পরে তৈরি থাকলেও, সবাইকে চমকে দিয়ে ৭ নম্বরে প্রমোশন দেওয়া হয় জোফরা আর্চারকে। কোচের সেই ফাটকা ১০০ ভাগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ১৫ বলে ৩টি বিশাল ছক্কায় ৩২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন আর্চার।

তাঁর এই ক্যামিওতেই ভর করে শেষ পর্যন্ত ২০৫ রানের পাহাড়সম পুঁজি পায় রাজস্থান।

বল হাতেও আর্চারের তোপ

২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা মুম্বাইকে শুরুতেই ধাক্কা দেন আর্চার। নিজের প্রথম ও স্পেলের তৃতীয় ওভারে মুম্বাইয়ের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে পাওয়ার প্লেতেই স্বাগতিকদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন এই ইংলিশ স্পিডস্টার। ৩ উইকেটে ৪৪ রান হারানো মুম্বাইয়ের পক্ষে হাল ধরেন সূর্যকুমার যাদব ও উইল জ্যাকস।

সূর্যকুমার ৬০ ও জ্যাকস ৩৩ রান করে আশা জাগালেও রাজস্থানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় মুম্বাই।

শেষ দিকে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া ৩৪ রান করে যখন এক অবিশ্বাস্য জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নিজের শেষ ওভারে বল হাতে ফিরে নিখুঁত হার্ড-লেন্থ ডেলিভারিতে হার্দিককে পরাস্ত করেন আর্চার। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে একাই ৩ উইকেট শিকার করেন এই পেসার।

মুম্বাইয়ের ইনিংস শেষ হয় ১৭৫ রানে। রাজস্থানের পক্ষে ব্রিজেশ শর্মা ও নান্দ্রে বার্গার নেন ২টি করে উইকেট।

আরও পড়ুন:
আইপিএল প্লেঅফে খেলতে রাজস্থান রয়্যালসের সামনে জয়ের সমীকরণ