Mitchell Starc, Pat Cummins, and Josh Hazlewood celebrating for Australia.বাংলাদেশ সফরে নেই কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজলউড। ছবি: এএফপি

আইপিএল শেষ হওয়ার পর চরম ব্যস্ত সূচির মধ্য দিয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। পাকিস্তানে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষেই বাংলাদেশ সফরে আসবে অজিরা। তবে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের মতো তারকা পেসারদের পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সফরে কেন বিশ্বসেরা এই পেস ত্রয়ী দলে নেই, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

অনেকের ধারণা ছিল, আইপিএলের ধকলের পর অজি তারকারা নিজেরাই বেছে বেছে আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলছেন।

কিন্তু এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার আগে কোচ স্পষ্ট করেছেন যে, ক্রিকেটাররা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না; বরং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

চোটের ধকল ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে অনুপস্থিত এই তিন তারকারই বড় শত্রু চোট। প্যাট কামিন্স দীর্ঘদিন ধরে পিঠের সমস্যায় ভুগছেন, যার কারণে আইপিএলের প্রথম অংশে তিনি খেলতেই পারেননি।

অন্যদিকে জশ হ্যাজলউড ভুগছেন হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস ইনজুরিতে এবং মিচেল স্টার্কের সমস্যা তাঁর কাঁধ ও কনুইয়ে।

মূলত এই চোটের ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিরিজের দলে তাঁদের রাখা হয়নি বলে জানান ম্যাকডোনাল্ড।

আজ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় কোচ বলেন, “ওরা দেশের হয়ে সবসময় খেলতে চায়। কিন্তু সামনে আমাদের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই মুহূর্তে তাঁদের ওপর অতিরিক্ত ক্রিকেটের চাপ দেওয়া ঠিক হবে না। পরবর্তী মেগা অ্যাসাইনমেন্টগুলোর জন্য এই পেসারদের মানসিকভাবে ফ্রেশ রাখা জরুরি।”

আরও পড়ুন:
গ্রিনকে ‘ম্যাক্সওয়েল বানাতে’ অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ পরিকল্পনা

বয়স ও আইসিসি ইভেন্টের বাস্তবতা

পেসারদের বয়স বেড়ে যাওয়াকেও আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। বর্তমানে কামিন্সের বয়স ৩৩, হ্যাজলউডের ৩৫ এবং স্টার্কের ৩৬ বছর।

এই বয়সে এসে তিন ফরম্যাটে টানা খেলা অসম্ভব। তাই ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর গত দুই বছরে এই তিন তারকা পেসারকে একসঙ্গে খুব কমই দেখা গেছে।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একসঙ্গে খেললেও, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—আইসিসির এই বড় দুই ইভেন্টের একটিতেও ইনজুরির কারণে একসঙ্গে থাকতে পারেননি কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজলউড।

বাংলাদেশে আসছে শক্তিশালী অজি দল

তারকা পেসাররা না থাকলেও বাংলাদেশ সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই আসছে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই সিরিজেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিশ ও ক্যামেরন গ্রিনদের মতো বিধ্বংসী তারকারা খেলবেন এই সিরিজে।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৯, ১১ ও ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে টি-টোয়েন্টি খেলতে ভেন্যু বদল করবে দুই দল। ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের আশায় বাংলাদেশ