অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশের জয়ের খতিয়ান স্রেফ একটি। ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিল সেই ঐতিহাসিক জয়। তবে এবার আর ঘরের মাঠে কেবল একটি জয় নয়; ক্রিকেটের পরাশক্তি অজিদের ডেরায় গিয়েই টেস্ট জয়ের স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাসমান পাড়ের দেশটিতে ইতিহাস গড়তে চান জাতীয় দলের টপ অর্ডার ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়।
সবশেষ ২০০৩ সালে ক্যাঙ্গারুদের দেশে টেস্ট খেলেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে আগামী আগস্টে (২০২৬) অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সিরিজকে সামনে রেখে বেশ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই (হোয়াইটওয়াশ) করার টাটকা স্মৃতি ও সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্ম এই কঠিন সফরের আগে শান্ত-জয়দের মূল টনিক হিসেবে কাজ করছে।
“অস্ট্রেলিয়ায় একটা টেস্ট জিতলেই ইতিহাস”
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টেস্ট সিরিজ নিয়ে আজ মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও দলের স্বপ্নের কথা অকপটে জানান মাহমুদুল হাসান জয়।
সেখানে নিজের লক্ষ্য উঁচিয়ে ধরে জয় বলেন, “সবারই আশা থাকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলার। আর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যদি আমরা একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে সেটা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে, ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন:
‘সেরা অর্জনের’ পর শান্ত চান অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বেশি ম্যাচ
স্পোর্টিং উইকেটের সুবিধা নিতে চায় দল
অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি ও পেস-সহায়ক কন্ডিশনে ভালো করতে দেশের মাটির সাম্প্রতিক উইকেটগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস জয়ের।
ঘরের মাঠেও এখন স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে খেলার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যদি দেখেন, গত ৪-৫টা সিরিজ যখন দেশের মাটিতে খেলেছি, খুব ভালো স্পোর্টিং উইকেট ছিল। সেখানে বাউন্স খুব ভালো ছিল, উইকেটে রান হয়েছে, আবার আমাদের বোলারেরাও উইকেট নিয়েছে। সুতরাং এটা আমাদের জন্য খুব ইতিবাচক দিক যে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যদি এই ধরনের চেনা বাউন্সি উইকেট পাই, আমাদের ব্যাটার-বোলার সবার জন্যই খুব ভালো হবে।”
যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের
বাংলাদেশ দল এখন আর কোনো পরাশক্তিকে দেখে ভয় পায় না, বরং যেকোনো কন্ডিশনে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে বলে দাবি জয়ের।
নিজের দলের বোলিং আক্রমণ ও ব্যাটিং লাইনআপের ওপর ভরসা রেখে এই ওপেনার বলেন, “এখন আমরা যে পর্যায়ে আছি, আমরা কিন্তু যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতোই পুরোপুরি সক্ষম। আমাদের মূল কাজ হবে স্কোরবোর্ডে ভালো রান জমা করা। আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে ভালো একটা টোটাল তুলতে পারি, তাহলে আমাদের যে মানসম্মত ও বিশ্বমানের বোলার আছে, ওরা বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কঠিন সময়ের মুখোমুখি করতে পারবে।”
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার ঠাসা সূচি: নিউজিল্যন্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট, আছে বাংলাদেশও

