সিলেট টেস্ট শেষ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে এক সপ্তাহ। মাঠের সেই ঐতিহাসিক জয়ের রেশও কিছুটা মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে। তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র নতুন র্যাঙ্কিং মনে করিয়ে দিল, সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে কতটা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। বল হাতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিং অর্জন করেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। অন্যদিকে, টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হয়ে ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। এছাড়াও র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে লিটন কুমার দাস ও গতিদানব নাহিদ রানার।
ক্যারিয়ার সেরা তাইজুল, লাফ দিলেন মিরাজ ও রানা
সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসের ৬টিসহ ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম। স্পোর্টিং উইকেটে তাঁর বোলিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে থাকা সব সংশয়কে যেন কবর দিয়ে দিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সে দুই ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট বোলার এখন উঠে এসেছেন ১১ নম্বরে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন সেরা রেটিং।
শুধু বোলিংয়েই নয়, সিলেটে ব্যাট হাতেও দুই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আইসিসি টেস্ট অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ২৯ নম্বরে।
স্পিন আক্রমণে তাইজুলের যোগ্য সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছেন। এই অফ স্পিনার এখন আছেন ২৫ নম্বরে। ব্যাট হাতে সিরিজটি খুব একটা ভালো না কাটলেও অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে দুর্দান্তভাবে ৪ নম্বর জায়গাটি ধরে রেখেছেন তিনি। এদিকে স্পিনারদের রাজত্বের মাঝেও সিলেটে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা ছুটে চলেছেন উন্নতির পথ ধরেই। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে এখন তাঁর অবস্থান ৫৪তম।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার সাতে বাংলাদেশ
মুশফিকের বিশ্বরেকর্ড, লিটনের বড় লাফ
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিতে মুশফিকুর রহিম এগিয়েছেন ১০ ধাপ। ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে তিনি এখন জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ নম্বরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আপাতত তিনিই সবার ওপরে আছেন। এই সিরিজে চার ইনিংসে ২৫৯ রান করে ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হন মুশফিক। ২১ বছর ও ১০২ ম্যাচের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার এই অনন্য স্বীকৃতি পেলেন তিনি।
ক্যারিয়ারের সেরা এই অবস্থানে মুশফিক পৌঁছালেন ৩৯ বছর বয়সে এসে, যা তাঁর ক্রিকেটীয় নিবেদনের এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন লিটন দাস। সিরিজে মোট ২৩৯ রান করা এই উইকেটকিপার ব্যাটার ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন আছেন ২৪ নম্বরে। তবে ঘরের মাঠে সাফল্যের মাঝেও শান্ত ও মুমিনুলের জন্য ছিল দুঃসংবাদ। মিরপুর টেস্টে সেঞ্চুরি করলেও সিলেটে ভালো করতে না পেরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ৩০ নম্বরে। আর এই টেস্টে ২২ ও ৩০ রানে আউট হয়ে ৩ ধাপ পিছিয়ে ৩৮ নম্বরে নেমেছেন মুমিনুল হক।
দল হারলেও র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পাকিস্তানের
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দল হারলেও ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেয়েছেন পাকিস্তানের পেসার খুররাম শাহজাদ। প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে দুই ইনিংসে ৪টি করে উইকেট নিয়ে এই পাকিস্তানি পেসার আবার র্যাঙ্কিংয়ে ঢুকেছেন এবং ৪৯ নম্বর স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।
মাঠের পারফরম্যান্সের মতো র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতিতেও দারুণ মিল দেখা গেছে পাকিস্তানের শান মাসুদ ও সালমান আলি আগার মধ্যে। সিলেটে দুজনেই প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছেন ২১ রানে, আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৭১ রান। ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এই দুই পাক ব্যাটসম্যানই এগিয়েছেন দুই ধাপ। সালমান বর্তমানে আছেন ২৭ নম্বরে এবং অধিনায়ক শান মাসুদ আছেন ৪৪ নম্বরে।
আরও পড়ুন:
র্যাঙ্কিংয়ে হৃদয়ের সুখবর: উন্নতি করেছেন লিটন-শরীফুল

