Neymar smiling in Brazil national football team jersey.ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার। ছবি: গেটি ইমেজেস

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের চোট নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। ডান পায়ের কাফ মাসলে (পেশি) নতুন করে গ্রেড-টু ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েই গ্রানজা কোমারির অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড। বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা সেলেসাওদের মেডিকেল টিম ও পুরো কোচিং স্টাফের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চোটের গভীরতা এতটাই বেশি যে দলের প্রাথমিক অনুশীলন সেশন বাদ দিয়ে ফুটবল ফেডারেশনকে কঠোর গোপনীয়তার মাঝে নেইমারের এমআরআই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়েছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে নেইমারকে চূড়ান্ত সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আগামী ৬ জুন মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় প্রীতি ম্যাচটিকে নেইমারের ফিটনেস পরীক্ষার শেষ মঞ্চ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ম্যাচে তিনি মাঠে নামার মতো উপযুক্ত কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে তাঁর দলে থাকা বা না থাকার ভাগ্য। বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াড চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগপর্যন্ত যেকোনো চোটাক্রান্ত খেলোয়াড় পরিবর্তন করার সুযোগ পাবে ব্রাজিল।

মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, নেইমারের এই চোট সারতে অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যার ফলে পানামার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ তো বটেই, বিশ্বকাপের আগে দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অনুশীলন সেশনেও এই তারকা উইঙ্গারের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে দলের ভেতরে তীব্র আতঙ্ক থাকলেও জনসমক্ষে আত্মবিশ্বাসী নেইমার।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বেশ ক্ষুব্ধ কণ্ঠেই এই তারকা বলেন, ‘আমার কাফ মাসল একদম ঠিক আছে, সমস্যাটা কোথায়?’

আরও পড়ুন:
যে ভিডিও কলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমার!

আনচেলত্তির নতুন ছক ও নেইমার পরিকল্পনা

ইনজুরির কারণে দলে শুরুতে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও নেইমার যেন কোনোভাবেই ক্যাম্প ছেড়ে না যান, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। দলের অভিজ্ঞ এই সেনসেশনকে ব্যাক-আপ হিসেবে রেখে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

এবার গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।

আর এই কঠিন যাত্রার আগে দলের প্রধান চালিকাশক্তিকে পুরো ফিট অবস্থায় পেতে সান্তোসের চিকিৎসকদের সাথে দিনরাত এক করে কাজ করছেন ব্রাজিলের বিশেষ চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ নেইমার, রহস্যময় ছক বানাচ্ছেন আনচেলত্তি