২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবল বিশ্বের চিরকালীন দুই প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মাঠের বাইরের সমীকরণ এক নতুন মাত্রা পেল। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও তাদের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে অকপটে প্রশংসা করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, এবারও বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাবিদার দলটির নাম আর্জেন্টিনা, আর এর প্রধানতম কারণ অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
খেলার মাঠে চিরশত্রু হলেও লিওনেল মেসির জাদুকরী ফুটবল শৈলী এবং স্কালোনির দলের আত্মবিশ্বাসকে সরাসরি স্বীকৃতি দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি ভিনিসিয়ুস।
সম্প্রতি ‘কেইজ টিভি’ (CazeTV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, “আমিও ফেবারিটের তালিকায় আর্জেন্টানাকেই বেছে নেব, কারণ তারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন, তাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে এবং সবচেয়ে বড় কথা—তাদের দলে মেসি আছে।”
মেসির ম্যাজিক ও ভিনিসিয়ুসের সমীহ
ভিনিসিয়ুসের এই সমীহের পেছনে কেবল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বা ট্রফি বড় কারণ নয়। তাঁর মতে, ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ডের মাঠের ভেতরের অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী মুভমেন্টগুলোই প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। মেসির খেলা এতটাই অননুমেয় যে, যেকোনো মুহূর্তে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
৩৮ বছর বয়সে এসেও প্রতিপক্ষের জন্য মেসি কতটা ভয়ঙ্কর ও প্রভাব বিস্তারকারী, তা উল্লেখ করেছেন ভিনিসিয়ুস।
ভিনি যোগ করেন, “মেসি সবসময়ই মাঠে ভিন্ন কিছু নিয়ে আসে; ও ঠিক কখন কী করে বসবে, সেটা আমরা কখনই আগে থেকে কল্পনা করতে পারি না।”
এই সম্মান ও সমীহ আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি এসেছে খোদ ব্রাজিলের বর্তমান আক্রমণের প্রধান নেতার মুখ থেকে।
ব্রাজিলের মিশন ও সমীকরণ
লিওনেল মেসির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা থাকলেও ভিনিসিয়ুসের মূল লক্ষ্য কিন্তু ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের দীর্ঘ ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটানো।
এবার রিয়াল মাদ্রিদের সফল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা সেলেসাওরা বিশ্বাস করে, হেক্সা মিশন বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও গভীরতা তাদের স্কোয়াডে রয়েছে। নেইমারের চোটজনিত ইনজুরি আর শঙ্কার মাঝে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনহার ওপরই মূলত ব্রাজিলের আক্রমণভাগের পুরো দায়িত্ব থাকবে। ফিফার সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
অন্যদিকে, লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপে লড়বে আলজেরিয়া, জর্ডান ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে। কাতার বিশ্বকাপে যারা কপাল পুড়িয়েছিল, সেই রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ও এনসো ফার্নান্দেজের বিশ্বসেরা ভারসাম্যপূর্ণ মাঝমাঠ এবারও আলবিসেলেস্তাদের বড় ভরসা।
ওপ্টা সুপারকম্পিউটারের প্রেডিকশন বলছে, ৪৮ দলের মেগা টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের আগে মেসির ইনজুরি কী বড় কিছু? যা জানা গেল

