বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় রচিত হলো ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস। মিকেল আর্তেতার আর্সেনালকে টাইব্রেকারের চরম নাটকীয়তায় ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট ধরে রাখল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন নামকরণের পর রিয়াল মাদ্রিদের (২০১৬-১৮) পর মাত্র দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দুইবার এই ট্রফি জেতার অনবদ্য রেকর্ড গড়ল ফরাসি জায়ান্টরা। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে গানার্সদের স্তব্ধ করে উল্লাসে মাতে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
ঠিক ২০ বছর আগে ২০০৬ সালের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে যেভাবে শুরুতেই লিড নিয়েছিল আর্সেনাল, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ম্যাচের শুরুতেই পিএসজি ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের একটি ক্লিয়ারেন্স আর্সেনাল উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। সেখান থেকে বল পেয়ে যান জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। হাফ-ওয়ে লাইনের কাছ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এক দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে পিএসজির জালের ছাদ কাঁপিয়ে গানার্সদের ১-০ গোলে এগিয়ে নেন হাভার্টজ।
তবে প্রথমার্ধে লিড ধরে রাখলেও দ্বিতীয়োয়ার্ধের প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় লুইস এনরিকের কৌশলের কাছে খেই হারায় ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।
মসকেরার ভুল ও দেম্বেলের পেনাল্টি ম্যাজিক
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে যখন আর্সেনাল ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান মসকেরা ডি-বক্সের ভেতর পিএসজির জর্জিয়ান উইঙ্গার খিচা কাভারাস্কেইয়াকে ফাউল করে বসেন। রেফারির পেনাল্টির বাঁশির পর দীর্ঘ ভিএআর (VAR) চেক এবং বেশ কিছুটা নাটকীয় বিলম্ব শেষে স্পট কিক নিতে আসেন উসমান দেম্বেলে। আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে সম্পূর্ণ ভুল দিকে পাঠিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
ম্যাচে ১-১ সমতা আসার পর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকার রোমাঞ্চ ও এনরিকের বুনো উল্লাস
স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে পিএসজির হয়ে প্রথম দুটি শটে গোল আসলেও তৃতীয় শটটি মিস হয়। তবে শেষ দুটি শটে সফল গোল করে নিজেদের টিকিয়ে রাখে ফরাসিরা।
অন্যদিকে আর্সেনালের দ্বিতীয় শটটি মিস হওয়ার পর পঞ্চম ও চূড়ান্ত শটটি মিস করতেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় গানার্সদের।
আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েসের নেওয়া শেষ ও চূড়ান্ত পেনাল্টি শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে নিশ্চিত হয়ে যায় পিএসজির ৪-৩ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয়।
জয় নিশ্চিত হতেই পিএসজির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা মাঠে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন, যেখানে ৫৫ বছর বয়সী লুইস এনরিকেকে ১৮ বছরের তরুণের মতো লাফিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের সতীর্থ মার্কিনহোস বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন আর্সেনালের কান্নারত ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে।
পুরো ম্যাচে অসাধারণ পারফর্ম করে ম্যাচ সেরার (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কার জেতেন উসমান দেম্বেলে।
আর্সেনালের প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল প্যারিস।
আরও পড়ুন:
চ্যাম্পিয়নস লিগের নেশায় টেনিসের ‘নিষিদ্ধ’ প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে পিএসজি!

