আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বমঞ্চের এই মেগা আসর কেবল গ্রহের সেরা ফুটবলারদেরই এক ছাদের নিচে আনছে না, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ও পুঁজিসমৃদ্ধ দলগুলোর এক মহা প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে এবার। ফুটবলারদের সাম্প্রতিক বাজারমূল্য (মার্কেট ভ্যালু) বিশ্লেষণ করে ফুটবল বাণিজ্যের নতুন যে খতিয়ান সামনে এসেছে, তাতে বিশ্বমঞ্চের সবচেয়ে দামি দল হিসেবে ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশনে নামবে ইংল্যান্ড। শীর্ষ ৫ দলের মধ্যে ব্রাজিল থাকলেও নেই আর্জেন্টিনা।
তরুণ প্রতিভায় ঠাসা ইংলিশদের বর্তমান স্কোয়াডের মোট মূল্য এক অবিশ্বাস্য সমীকরণে ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।
ফুটবল বাজারের এই আর্থিক আধিপত্য মূলত ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর দখলেই রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে কেবল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন—এই তিনটি পরাশক্তির স্কোয়াড মূল্য ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ইউরোর গণ্ডি পার করতে পেরেছে, যা টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর তুলনায় তাদের এক বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে।
জুড-সাকার ইংল্যান্ড শীর্ষে, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফ্রান্সের
ইউরোপের এলিট ফুটবলে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা একঝাঁক তরুণ মহাতারকার ওপর ভর করে এই তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে ইংল্যান্ড।
জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা এবং ফিল ফোডেনের মতো ফুটবলাররা থ্রি লায়ন্সদের বাজারমূল্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এর পেছনে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) আকাশচুম্বী অর্থনৈতিক শক্তি, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী ফুটবল লিগ হিসেবে বিবেচিত।
১.৫ বিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি মূল্য নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ফ্রান্স।
বিশ্ব ফুটবলে একের পর এক বিশ্বমানের প্রতিভা উপহার দিয়ে যাওয়া ফরাসিদের বর্তমান স্কোয়াডটিকে ধরা হচ্ছে এই গ্রহের অন্যতম সম্পূর্ণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল। এদের দলে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, অহেলিয়া চুয়ামেনি এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তরুণ তুর্কীরা ফরাসিদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রেখেছেন।
আরও পড়ুন:
আর্জেন্টিনার ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথমবার ঘটছে
স্পেনের নতুন স্বর্ণযুগ ও রোনালদোর পর্তুগাল
খেলোয়াড়দের মূল্যের দিক থেকে তালিকায় তৃতীয় স্থানটি স্পেনের দখলে। লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি এবং গাভির মতো তরুণ ফুটবলারদের হাত ধরে ‘লা রোজা’রা ফুটবলে এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং এই তরুণদের বাজারমূল্য হুট করে রকেটের গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বমঞ্চের অন্যতম দামি দলে পরিণত হয়েছে স্পেন।
এদিকে, চার নম্বর স্থানটি নিজেদের দখলে রেখেছে ক্রিস্টিয়ানো রনালদোর পর্তুগাল। যদিও রনালদো এখনো পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক আইকন ও ব্র্যান্ড, তবে দলটির বর্তমান বাজারমূল্য মূলত টিকিয়ে রেখেছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, রাফায়েল লেয়াও এবং ভিতিনহার মতো তরুণ তারকারা, যারা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে মাঠ মাতাচ্ছেন।
লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধি ব্রাজিল
ইউরোপীয় জায়ান্টদের এই একচেটিয়া দাপটের মাঝে শীর্ষ পাঁচের শেষ স্থানটি দখল করেছে লাতিন আমেরিকার সফলতম দল ব্রাজিল।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রদ্রিগোর মতো রিয়াল মাদ্রিদ তারকাদের ওপর ভর করে সেলেসাওরা ফুটবল বাজারে নিজেদের অর্থনৈতিক ও ক্রীড়াশৈলীর বিশাল সামর্থ্য ধরে রেখেছে। সামগ্রিক মূল্যায়নে ইউরোপের পরাশক্তিদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দামি দল হিসেবেই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রাখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে এবারের বিশ্বকাপে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল’ ৫টি দলের মধ্যে নেই লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, যারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন।
ফুটবল ইতিহাস বলে, মাঠের ফুটবল আর কাগজের কলমের এই আর্থিক মূল্য কখনোই সাফল্যের গ্যারান্টি দেয় না; অতীতে অনেক কম দামি দলও বিশ্বকাপে রূপকথা লিখেছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, দুইয়ে ওঠে এল বার্সা

