নিজের অভিষেক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একজন ক্রিকেটারের আর কী-ই বা চাওয়ার থাকতে পারে! রাওয়ালপিন্ডিতে ঠিক সেই রূপকথার গল্পটাই লিখলেন ২১ বছর বয়সী তরুণ স্পিনার আরাফাত মিনহাস। নিজ দেশের ১০০০তম ওয়ানডের ঐতিহাসিক মঞ্চে অজি বধের মূল নায়ক বনে গেলেন এই অভিষিক্ত তরুণ। বল হাতে একাই ধসিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ, আর পরে ব্যাট হাতেও রাখলেন অবদান। আরাফাতের জাদুকরী ফাইফার (৫ উইকেট) এবং বাবর আজম ও গাজী ঘোরির জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ভর করে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান।
এদিন ঐতিহাসিক ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন স্বাগতিক অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে একটুও সময় নেননি বোলাররা। শুরুতেই আরেক স্পিনার আবরার আহমেদের স্পিন জাদুতে ১৯ রান করে বিদায় নেন ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারি।
এরপরই শুরু হয় ‘আরাফাত মিনহাস শো’।
একের পর এক ঘূর্ণি জাদুতে অজি ব্যাটারদের বোকা বানাতে শুরু করেন তিনি। ম্যাথু শর্ট একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫৫ রান করলেও অন্য প্রান্তে আরাফাতের স্পিন বিষে নীল হয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিশ (১৩)।
এরপর খাতা খোলার আগেই মার্নাস লাবুশেন ও ক্যামেরন গ্রিনকে পরপর শূন্য রানে সাজঘরে পাঠিয়ে অজিদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন আরাফাত।
রেনশর লড়াই ও আরাফাতের ফাইফার কীর্তি
টপ অর্ডারের চরম ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ম্যাট রেনশ। ৬৩ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৬১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে সম্মানজনক স্কোরে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে রেনশকে আবরার আহমেদ এবং অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা অজি তরুণ অলিভার পিককে (৭) সালমান আঘা দ্রুত বিদায় করলে আবারও চাপে পড়ে সফরকারীরা।
শেষদিকে ম্যাথু কুহনেম্যানের ২৪ এবং নাথান এলিসের ৮ রানের ওপর ভর করে কোনোমতে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে অস্ট্রেলিয়া।
শেষ ব্যাটার হিসেবে তানভীর সাঙ্ঘাকে শাহীন আফ্রিদি বোল্ড করলে ৪৪.১ ওভারে মাত্র ২০০ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
পাকিস্তানের হয়ে ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৩২ রান খরচায় একাই ৫টি উইকেট শিকার করেন আরাফাত মিনহাস। এছাড়া আবরার আহমেদ ২টি এবং শাহীন, হারিস রউফ ও সালমান আঘা ১টি করে উইকেট নেন।
বাবর-গাজীর ব্যাটে সহজ জয়
জয়ের জন্য ২০১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪১ রানের মাথায় দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (২৮) ও মাআজ সাদাকাতকে (৮) হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে তৃতীয় উইকেটে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম এবং উইকেটকিপার ব্যাটার গাজী ঘোরি মিলে ১৩৪ রানের এক ম্যাচজয়ী পার্টনারশিপ গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
বাবর আজম ৯৪ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৯ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। ৯২ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৬৫ রান করেন গাজী ঘোরি।
দলীয় ১৭৫ রানের মাথায় এই দুই সেট ব্যাটারকে নাথান এলিস এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বিদায় করলেও ম্যাচ তখন পুরোপুরি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে।
শেষদিকে ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া আরাফাত মিনহাস ব্যাট হাতেও ১৭ বলে ১৮ রান (২টি চার ও ১টি ছক্কা) করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। ৪২.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান এলিস ৪৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পাকিস্তানের এই হাজারতম ওয়ানডের সেরা নায়ক নিঃসন্দেহে আরাফাত মিনহাস।

