প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মহোৎসব রূপ নিল এক ভয়াবহ সহিংসতায়। বুদাপেস্টে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফরাসি জায়ান্টরা ট্রফি ধরে রাখার পর শনিবার রাতে প্যারিসসহ পুরো ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। উল্লাস করতে নেমে উগ্র সমর্থকদের একাংশ দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এমনকি একটি থানায় হামলার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার সকাল পর্যন্ত পুরো ফ্রান্সে ৪১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে কেবল প্যারিস এলাকা থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮৩ জনকে।
শনিবার রাতে পুসকাস অ্যারেনায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই ফরাসি রাজধানীর রাস্তায় নামতে শুরু করে হাজার হাজার ফুটবল ভক্ত।
শুধু বিখ্যাত শঁজেলিজেই (Champs-Élysées) চত্বরেই জমায়েত হয় প্রায় ২০ হাজার সমর্থক। আর্কের দ্য ত্রিয়োম্বের (Arc de Triomphe) আশেপাশে ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে এবং গাড়ির হর্ন বাজিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের রাতটি অল্প সময়ের মধ্যেই এক বিভীষিকাময় রূপ নেয়। প্যারিসের অভিজাত অষ্টম অ্যারোন্ডিসমেন্ট (8th Arrondissement) এলাকায় একদল উগ্র সমর্থক একটি আস্ত থানা অবরুদ্ধ করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে পুলিশ টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
রিয়াল মাদ্রিদের বিরল রেকর্ডে ভাগ বসালো পিএসজি
অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও স্তব্ধ প্যারিসের রিং রোড
প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার জানিয়েছে, উগ্র সমর্থকদের ছোট ছোট দল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তাণ্ডব চালায়। রাত ১১টার মধ্যেই পুলিশ ১৩০ জনেরও বেশি দাঙ্গাকারীকে গ্রেফতার করে। ততক্ষণে উগ্র সমর্থকরা অন্তত ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দুটি বড় শোরুমের সামনের অংশ গুঁড়িয়ে দেয়।
এছাড়া শহরের একটি নামকরা বেকারি ও রেস্তোরাঁতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
দাঙ্গার এক পর্যায়ে প্যারিস শহরকে ঘিরে রাখা প্রধান রিং রোডটি (পেরিফেরিক) ব্যারিকেড দিয়ে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে উন্মত্ত জনতা। এতে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাস্তাটি সচল করে। এছাড়া পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসের (১৬তম অ্যারোন্ডিসমেন্ট) সামনে জড়ো হওয়া প্রায় ১,০০০ সমর্থককে সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে। সেখানে বাইসাইকেল দিয়ে তৈরি করা অবৈধ ব্যারিকেডগুলো পুলিশ ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নেয়।
গত বছরের চেয়েও ভয়াবহ সহিংসতা
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএফএমটিভি-কে (BFMTV) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, রাতভর চলা এই দাঙ্গা দমনে পুলিশকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে পিএসজি যখন তাদের ক্লাব ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জিতেছিল, তখনও ফ্রান্সে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল এবং সেবার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার পুরো প্যারিসজুড়ে ৮,০০০ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রেখে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল।
কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর এত কঠোর নজরদারির মধ্যেও উগ্র সমর্থকদের এমন ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব ফ্রান্সে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে।
ইউরোপ সেরার ট্রফি প্যারিসে আসলেও বিজয়ের আনন্দকে পুরোপুরি মলিন করে দিয়েছে এই ট্র্যাজিক রাত।
আরও পড়ুন:
টাইব্রেকার রোমাঞ্চে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা পিএসজির

