Fifa to introduce new technology in world cup 2026.ফিফা বিশ্বকাপে অফসাইড ধরতে নতুন প্রযুক্তি। ছবি: জিএমএস

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নানা কারণেই ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের এই মেগা আসর যৌথভাবে আয়োজন করছে তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। শুধু তাই নয়, ফুটবলপ্রেমীরা এবারই প্রথম সাক্ষী হতে যাচ্ছেন ৪৮ দলের এক বিশাল মহাযজ্ঞের। তবে মাঠের দল সংখ্যা বা আয়োজক দেশের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির দিক থেকেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। বিশেষ করে মাঠে অফসাইডের সূক্ষ্ম ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিখুঁত করতে এবং রেফারিদের কাজের চাপ কমাতে এবার যুক্ত করা হচ্ছে এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এই নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লবের কথা সামনে আনা হয়েছে।

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ২০২৬ বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ নতুন ‘সেমি-অটোমেটেড’ বা আধা-স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিতে রেফারিদের আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। সাধারণত দেখা যায়, কোনো আক্রমণ শেষ হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর সহকারী রেফারি বা লাইনসম্যানরা পতাকা তোলেন; কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই চিরচেনা দৃশ্যে বড় বদল আসতে যাচ্ছে।

১০ সেন্টিমিটারের ব্যবধান ও রিয়েল-টাইম অডিও অ্যালার্ট

নতুন এই সেমি-অটোমেটেড ব্যবস্থার মূল সুবিধা হলো, এটি মাঠের যেকোনো অফসাইডের সংকেত মুহূর্তের মধ্যে ভিডিও রুম থেকে সরাসরি অন-ফিল্ড রেফারিদের কাছে পৌঁছে দেবে। মাঠের কোনো ফুটবলার যদি মাত্র ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি ব্যবধানে অফসাইড পজিশনে থাকেন, তবে রিয়েল-টাইমে (তাৎক্ষণিকভাবে) সহকারী রেফারির কানে একটি অডিও অ্যালার্ট বা সংকেত চলে যাবে। তবে প্রযুক্তি সংকেত দিলেও খেলা কখন থামাতে হবে কিংবা কখন পতাকা তুলতে হবে—সেই চূড়ান্ত ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি প্রধান রেফারির হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

কোনো কারণে সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ থাকলে রেফারি খেলা সচলও রাখতে পারবেন।

সুরক্ষামূলক কবচ ও প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, রেফারির সিদ্ধান্তকে শতভাগ নিখুঁত করতে এই আধা-স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা সেফগার্ড রাখা হয়েছে।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্যামেরার এই প্রযুক্তিরও কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন—মাঠে যদি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একদম গাঘেঁষাঘেঁষি অবস্থা থাকে, তবে সেই অতি সূক্ষ্ম অফসাইডগুলো ধরতে বেগ পেতে পারে এই সিস্টেম। এছাড়া কোনো ফুটবলার যদি মাঠে ইনজুরিতে পড়ে থাকেন কিংবা পেনাল্টি বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হয়, তখনো সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা প্রযুক্তির জন্য কঠিন হবে। কারণ, এই প্রযুক্তি কেবল খেলোয়াড়দের ত্রিমাত্রিক (3D) অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অফসাইড লাইন টেনেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখবে; বাকি পরিস্থিতি বিচার করে চূড়ান্ত বাঁশি বাজাবেন মানুষ রূপী রেফারিই।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে গড়াবে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের এই মেগা আসর। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার হেক্সা মিশনে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বজয়ের নতুন মিশন শুরু করবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ২২ ও ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

মূল বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে হন্ডুরাস এবং আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচও খেলবে আকাশী-নীল শিবির।

আরও পড়ুন:
২০২২ বিশ্বকাপের পর মেসি-নেইমারসহ ফুটবলে আলোচিত যত ঘটনা