ফুটবল খেলাটায় যেখানে তারুণ্যের গতি আর দমই শেষ কথা, সেখানে এবার এক অবিশ্বাস্য বুড়োদের জয়গান দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গতির ঝড় তোলার পাশাপাশি অভিজ্ঞতার পসরা সাজাবেন একঝাঁক চিরসবুজ ফুটবলার।
ফুটবল বিশ্বকাপের গত ৯৬ বছরের ইতিহাসে যা কখনো ঘটেনি, এবার সেটাই বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।
এই মেগা আসরে অংশ নিতে যাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮ জনে! মজার ব্যাপার হলো, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে ২০২২ কাতার আসর পর্যন্ত বিগত সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে যেখানে মাত্র ৮ জন ফুটবলার ৪০ ঊর্ধ্ব বয়সে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন, সেখানে এবার কেবল এক আসরেই দেখা মিলবে সমসংখ্যক ‘বুড়ো’ তারকার।
ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ৪৮টি দেশের মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের চূড়ান্ত তালিকা ও জন্মতারিখ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এই রোমাঞ্চকর তথ্যটি সামনে এনেছে। এবারের আসরে বিশ্বমঞ্চে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানো এই আট কিংবদন্তি হলেন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লুকা মদরিচ, ম্যানুয়েল নয়ার, গিয়ের্মো ওচোয়া, ক্রেগ গর্ডন, এডিন জেকো, ফার্নান্দো মুসলেরা ও জোসিমার দিয়াজ।
পাঁচজনই গোলরক্ষক
ফুটবলে বয়স বাড়লে মাঠে দৌড়ানোর গতি কমলেও, গোলপোস্টের নিচে যে রিফ্লেক্স আর অভিজ্ঞতা আরও ধারালো হয়—তা প্রমাণ করলেন এবারের পাঁচজন গোলকিপার।
তালিকায় থাকা আটজনের মধ্যে ক্রেগ গর্ডন, গিয়ের্মো ওচোয়া, ম্যানুয়েল নয়্যার, জোসিমার দিয়াজ ও ফার্নান্দো মুসলেরা হলেন অতন্দ্র প্রহরী।
রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, এই পাঁচ গোলরক্ষকের মধ্যে স্কটল্যান্ডের গর্ডন ও এল সালভাদরের দিয়াজ নিজেদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মঞ্চে খেলার টিকিট পেয়েছেন।
এবারের আসরের সবচেয়ে প্রবীণ ফুটবলারের তকমাটি লেগেছে স্কটিশ গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডনের গায়ে।
৪৩ বছর বয়সী এই তারকা স্কটল্যান্ড দলের প্রধান গোলকিপার হিসেবেই মাঠে নামবেন। ‘সি’ গ্রুপে থাকা স্কটল্যান্ড আগামী ২৪ জুন তাদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। সেই ম্যাচে গর্ডন মাঠে নামলেই এই আসরের প্রবীণতম খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়বেন। তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ থাকছে মিসরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক হিসাম আল হাদারির (৪৫ বছর ১৬১ দিন), যা তিনি গড়েছিলেন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে।
রোনালদো-ওচোয়ার ‘হেক্সা’ মিশন
তালিকায় বয়সের বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে এসেও নিজের ফিটনেস ধরে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের অধরা স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় পা রাখছেন সিআরসেভেন। এটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে।
একইভাবে মেক্সিকোর প্রাচীর খ্যাত ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াও নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বরেকর্ডের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন।
সাধারণত ফুটবলারদের বয়স ৪০ পার হলে তারা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো ছেড়ে একটু কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে পাড়ি জমান।
তবে এই আটজনের মধ্যে ব্যতিক্রম দুই মহাতারকা—ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ড জেনারেল লুকা মদরিচ এবং জার্মানির প্রাচীর ম্যানুয়েল নয়ার। ৪০ বছর বয়সেও মদরিচ ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে এবং নয়ার জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মূল স্রোতে দাপটের সঙ্গে খেলে যাচ্ছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই অভিজ্ঞ তারকাদের ফুটবল শৈলী তরুণদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

