ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) নবম আসরে আজ শুক্রবার মঞ্চস্থ হলো এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা। ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা বকেয়া পারিশ্রমিকের দাবিতে আজ মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানান। ভেন্যুতে উপস্থিত হয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর ফলে ম্যাচটিতে ওয়াকওভার ঘোষণা করা হয়, যার সুবাদে বিনা বাধায় পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নেয় প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
ঢাকার ৬টি ভেন্যুতে একযোগে ডিপিএলের ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও গোপীবাগের দলটির এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণে বিকেএসপির ম্যাচটি পণ্ড হয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হারের ফলে লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে।
আগামী মরসুমে দলটিকে খেলতে হবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে।
ক্ষোভের কারণ ও পারিশ্রমিক জটিলতা
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লিগ প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও চুক্তির সিংহভাগ টাকাই এখনো পাননি তারা। দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার মাত্র ২০ শতাংশ টাকা হাতে পেয়েছেন।
অন্যদিকে বেশিরভাগ জুনিয়র ও নিয়মিত ক্রিকেটারদের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ পারিশ্রমিক।
বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল পারিশ্রমিকের বকেয়া টাকা পরিশোধের চূড়ান্ত দিন।
কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই ডেডলাইন পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্রিকেটাররা নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে মনে করেন। ফলস্বরূপ, আজ শুক্রবারের বাঁচা-মরার ম্যাচটি খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হোটেল রুমে ধর্মঘট করেন তারা। ডিপিএলে ব্রাদার্সের এই পেমেন্ট জটিলতা কিংবা আর্থিক অনিয়ম এবারই প্রথম নয়; গত মৌসুমেও পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ক্রিকেটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে এবার সেই ক্ষোভ রূপ নিলো প্রকাশ্য বিদ্রোহে।
অগ্রণী ব্যাংকের ভাগ্য বদল ও প্রথম বিভাগে ব্রাদার্স
রেলিগেশন বা প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচটি ব্রাদার্স ও অগ্রণী ব্যাংক—দুই দলের জন্যই ছিল অলিখিত ফাইনাল। ম্যাচটিতে ওয়াকওভার পাওয়ায় অগ্রণী ব্যাংক বোনাস পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিপরীতে, ঐতিহ্যবাহী ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্রিকেট দলের এমন করুণ বিদায় এবং প্রথম বিভাগে নেমে যাওয়া দেশের ক্রিকেট মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পারিশ্রমিক নিয়ে ক্লাবের কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা এবং ক্রিকেটারদের ম্যাচ বয়কটের এই ঘটনায় সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ) কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:
ডিপিএলে এক দিনেই ৫ সেঞ্চুরি: হৃদয়-তামিমের ঝড়, খরুচে নাহিদ রানা

