শততম টেস্টের দ্বারপ্রান্তে মুশফিক

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র মুশফিকুর রহিম। কারণ আর কিছুই না, তার শততম টেস্ট খেলার ক্ষণ। এই সময়ে প্রেস কনফারেন্সেও ম্যাচের চাইতে মুশফিককে নিয়ে বেশি কথা বলতে হচ্ছে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দলের কোচদের।

বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স তো অকপটে বলে দিলেন, মুশফিক একজন কিংবদন্তি।

আগামীকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। এ ম্যাচে খেলতে নামলেই হয়ে যাবে মুশফিকের শততম টেস্ট। যেখানে তিনিই হবেন বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার।

আজ প্রেস কনফারেন্সে ফিল সিমন্স জানালেন, তার কাছে মুশফিক কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।

বললেন, ‘অবশ্যই তিনি কিংবদন্তি। খুব কম খেলোয়াড়ই আছেন, যাঁরা টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর মতো এতগুলো ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। আর ২০ বছর ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করা, এটা তাঁকে নিঃসন্দেহে কিংবদন্তির পর্যায়ে রাখে।’

শততম টেস্ট বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটি বড় এক ব্যক্তিগত অর্জন। কিন্তু মুশফিকের কাছে এটা কেবলই একটা সংখ্যা। তার মধ্যে আরও বহুদূর যাওয়ার তাড়না দেখেন কোচ।

ফিল সিমন্স বলেন, ‘তাঁর মধ্যে এখনো সেই ইচ্ছা, সেই ক্ষুধা আছে, যা ১৫০ টেস্ট খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যেই দেখা যায়। সে ক্রমাগত ভালো করতে চায়, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। নিজেকে আরও উন্নত করার মনোভাবই তাঁকে এখানে নিয়ে এসেছে।’

মুশফিকের টেস্ট অভিষেক ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে। তার আগে-পরে বহু ক্রিকেটার এসেছেন বাংলাদেশ দলে, ক্যারিয়ারও শেষ করেছেন। কিন্তু মুশফিক ব্যতিক্রম হয়ে রয়ে গেছেন। কিভাবে সম্ভব হলো?

টাইগারদের কোচ বলেন, ‘আসল রহস্য হলো পেশাদারিত্ব। আপনি নিজেকে কীভাবে পরিচালনা করেন, কীভাবে নিজের দক্ষতা উন্নত করেন এবং কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে কাজ করেন। যদি আপনি তার ক্যারিয়ারের দিকে তাকান, সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল, আর এটাই তাকে এত দিন ধরে খেলিয়ে যাচ্ছে।’

‘আমাদের তার পেশাদারিত্ব, তার দীর্ঘমেয়াদি পথচলা এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার প্রতি অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষা, এসবকে স্বীকার করতেই হবে। কারণ, ১০০ টেস্ট ম্যাচে পৌঁছানো সহজ নয়। বাংলাদেশ বছরে ১৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলে না। তাই এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার অনেক সময় লেগেছে, এটা আমাদের উপলব্ধি করা উচিত।’

বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদেরকে মুশফিককে অনুসরণ করতে বললেন সিমন্স, ‘তরুণদের জন্য বার্তা হচ্ছে—তার পেশাদার মনোভাব, নিজেকে পরিচালনার ধরন, অনুশীলনের প্রতি প্রতিশ্রুতি, এবং নিজেকে আরও ভালো করার আকাঙ্ক্ষাকে অনুসরণ করা। এই পর্যায়ে এসে স্থির থাকলে হয় না। সব সময় উন্নতি করতে হয়। এখন প্রযুক্তির কারণে বিশ্ব ক্রিকেট খুব ছোট। সবাই সব সময় আপনাকে বিশ্লেষণ করছে। তাই সব সময় এগোতে হবে। সে তার ক্যারিয়ারে অনেকবার নিজেকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছে।’

‘আমি আসার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে মুশিকে বলেছিলাম—এখন তুমি যা করছ, সেটা উপভোগ করো। প্রতিটি দিন, প্রতিটি টেস্ট উপভোগ করো। কারণ, যত দিন তুমি পারফর্ম করবে, তত দিন তুমি নিজেই নির্ধারণ করবে কত দিন খেলবে। পারফরম্যান্সটাই সবচেয়ে জরুরি। যত দিন সে পারফর্ম করবে, তার পেশাদারত্ব তাকে সমর্থন করবে—যত দিন না সে নিজে “না” বলে।’

‘তিনটিই তার মধ্যে আছে। সে দলের সবচেয়ে ফিট খেলোয়াড়দের একজন, পারফর্মও করছে। এই তিনটি মানদণ্ডই ঠিক থাকলে, কতো দিন খেলবে, সেটা সে নিজেই নির্ধারণ করবে।’