ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে হয়ে গেল তার শততম টেস্ট খেলা।
আজ এই গৌরবান্বিত মুহুর্তে, ম্যাচ শুরুর আগে মুশফিক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন, কৃতজ্ঞতার ঢালি দিলেন সবাইকে।
মুশফিকের শততম টেস্ট উপলক্ষে তাকে ঘিরে মাঠে ছোট্ট আয়োজন করে বিসিবি। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
উপস্থিত সাবেক ক্রিকেটার, কর্মকর্তা সবাইকে দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানোর পালা শুরু করেন মুশফিক। এরপর মা–বাবা, স্ত্রী, কোচ, সতীর্থ হয়ে ধন্যবাদ পেলেন তাঁর ভক্তরাও।
মুশফিক বলেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ এমন দারুণ একটা সুযোগের জন্য। যাঁরা উপস্থিত আছেন আপনাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পরিবারের সব সদস্য, বাবা-মাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশেষত আমার স্ত্রীকে, যে অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আমার সতীর্থ, কোচ, বন্ধু ও সব ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
সংযত আবেগ আর হাসিমুখ নিয়ে মুশফিক বললেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একশতে ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি।’
মুশফিকুর রহিমের অভিষেক টেস্টের (২০০৫, লর্ডস) অধিনায়ক হাবিবুল বাশার তাকে পরিয়ে দিলেন শততম টেস্টের বিশেষ ক্যাপ।
বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে খেলা ১১ ক্রিকেটারের মধ্যে নামের অদ্যক্ষরের কারণে প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে তকমা পেয়েছেন আকরাম খান। তিনিও মুশফিককে একটি বিশেষ ক্যাপ স্মারক হিসেবে তুলে দেন।
বিসিবির বর্তমান সভাপতি ও বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম এবং বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন সম্মাননা ক্রেস্ট দেন মুশফিককে।
মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের সতীর্থদের সিগনেচার করা একটি জার্সি তাকে উপহার দিয়েছেন অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও শততম টেস্টের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এরপর মুশফিকের জন্য ছোট্ট একটা বার্তায় শান্ত বলেন, ‘অভিনন্দন, মুশফিক ভাই! এটা আপনার ও পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। আমরা আপনাকে ছোটবেলা থেকে অনুসরণ করেছি, আপনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। আমি আশা করি, মাঠে ও বাইরে আপনি যে কঠোর পরিশ্রম করেন, সেটা চালিয়ে যাবেন। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি সব সময় দলের জন্য খেলেন। আপনি নিজের নয়, দলের কথা চিন্তা করেন।’
এরপর মুশফিকের বক্তব্য এক মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করেন।

