দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি।দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও তেমন কিছু করতে পারেননি মেসি। ছবি: গেটি ইমেজেস

র‍্যাঙ্কিংয়ের ১১৫তম দল মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়টি খাতা-কলমে আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চেনা ছন্দ ছিল পুরোপুরি অনুপস্থিত। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ লিওনেল স্কালোনির ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’র দিনে আলবিসেলেস্তেরা যে ফুটবল উপহার দিয়েছে, তাকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ ও ‘ছন্দহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন খোদ দলের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করলে আর্জেন্টিনার এই বাজে পারফরম্যান্সের বেশ কিছু নেপথ্য কারণ ফুটে ওঠে।

১. মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো ও গতির অভাব

ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বল দখল থাকলেও আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে কোনো সৃজনশীলতা দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় অর্ধে মৌরিতানিয়া ৪২ শতাংশ বল দখল করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। ‘ডিবু’ মার্তিনেজের ভাষায়, ম্যাচে কোনো ‘তীব্রতা’ (Intensity) ছিল না। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে দ্রুত উপরে ওঠার যে সহজাত প্রবৃত্তি আর্জেন্টিনার থাকে, এই ম্যাচে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।

২. স্কালোনির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছন্দের পতন

লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় ধরনের রদবদল করেছিলেন। রদ্রিগো দি পল এবং লিওনেল মেসিকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা এবং দ্বিতীয়ার্ধে মেসিকে একদম ‘অ্যাটাকিং থার্ডে’ স্ট্রাইকারের মতো খেলানো—এই নতুন ফর্মেশন হিতে বিপরীত হয়েছে। স্কালোনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “নতুন কিছু করার চেষ্টায় দলের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।” দলের নিয়মিত তাসের ঘর ওলটপালট হওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ছিল।

৩. পরিসংখ্যানে মৌরিতানিয়ার আধিপত্য

ম্যাচের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং আর্জেন্টিনার জন্য লজ্জাজনক পরিসংখ্যান হলো শট নেওয়ার সংখ্যা। পুরো ম্যাচে মৌরিতানিয়া যেখানে ১১টি শট নিয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র ৭টি। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, দ্বিতীয় অর্ধে মৌরিতানিয়া ৮টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র ১টি শট। এটি প্রমাণ করে যে, আফ্রিকার দলটির রক্ষণে ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডরা।

আরও পড়ুন: ‘ইউরোপ পরীক্ষা’ ছাড়াই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা: মেসিদের প্রস্তুতির ছক কি ঝুঁকিপূর্ণ?

৪. রক্ষণের দুর্বলতা ও মার্তিনেজের সেভ

ম্যাচের ৯৪ মিনিটে গোল হজম করাটা আর্জেন্টিনার রক্ষণের অসতর্কতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে মৌরিতানিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলাতে মার্তিনেজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয়েছে। ফিনালিসিমা বাতিল হওয়া নিয়ে ডিবু মার্তিনেজের কৌতুক— “ভাগ্যিস বেঁচে গিয়েছি, নইলে এই খেলায় স্পেনের কাছে হারতে হতো”—আসলে দলের রক্ষণভাগের দৈন্যদশারই এক চরম আত্মসমালোচনা।

৫. মেসির ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা

মেসিকে দ্বিতীয়ার্ধে নামানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল, কিন্তু দলের ছন্দহীনতার কারণে মেসিও বিশেষ কিছু করে দেখাতে পারেননি। তাঁকে একদম সামনে খেলানোর ফলে মাঝমাঠ থেকে বল পাওয়ার জন্য তাঁকে বারবার নিচে নেমে আসতে হয়েছে, যা তাঁর কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছিল।